ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে সম্প্রতি লন্ডনে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রিটিশ মিউজিয়ামটি বাংলাদেশের লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়।

শনিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানা যায়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, আজ থেকে ৫০ বছর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মোহনী নেতৃত্বে বাংলাদেশের বীর মুক্তিসেনাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয় এবং একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এশিয়ার অন্যতম একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। হাইকমিশনার ব্রিটিশ বাংলাদেশ সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশ বাংলাদেশি সম্প্রদায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং কমনওয়েলথভুক্ত দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতা এবং সংসদ সদস্য স্যার কিয়ার স্টারমার বলেন, লেবার পার্টি প্রধানমন্ত্রী হ্যারোল্ড উইলসনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যকার এই সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি ২০১৬ সালে তার বাংলাদেশ সফরের উল্লেখ করে আবারও বাংলাদেশ সফরে আসার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্যার কিয়ার বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু এবং ব্রিটেন: বাংলাদেশ ৫০’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তারা উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পরিচালক হাটউইগ ফিসার বলেন, আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি, কারণ এই মিউজিয়ামটি  যুক্তরাজ্যের এক নম্বর দর্শনার্থী আকর্ষণকারী স্থান। অনুষ্ঠানে ক্যামডেন কাউন্সিলের নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রিটিশ বাংলাদেশি মাহমুদ হাসান এমবিইও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিরোধী উপনেতা অ্যাঞ্জেলা রায়নার এমপি, বারোনেস পলা উদ্দিন, রোসনারা আলী এমপি, ক্যাথেরিন ওয়েস্ট এমপি,স্যার আখলাক চৌধুরী, ব্রিটিশ হাইকোর্টের সাবেক জজ রবার্ট ইভেন্স প্রমুখ।

পরে অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিল্পীরা নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন।