আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগানে শনিবার থেকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে শুরু হয়েছে ১৫তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০২২। চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধনী সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় ডেনিস গ্যানসেল পরিচালিত জার্মান চলচ্চিত্র ‘জিম বাটন অ্যান্ড দ্যা ওয়াইল্ড ১৩’।

এর আগে বিকেলে উদ্বোধনী সংগীত, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রজেকশন হলে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদুল ইসলাম, সভাপতি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, উপদেষ্টা ইয়াসমিন হক। উৎসব সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন উৎসব পরিচালক শাহরিয়ার আল মামুন। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এর মহাপরিচালক মো. নিজামূল কবীর।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে প্রতিদিন সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায়, মোট ৪টি প্রদর্শনী হবে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের উৎসব ঢাকার ১টি ভেন্যুতে প্রায় ৩৮টি দেশের ১১৭টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে একাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখানো হবে। উৎসবের সকল প্রদর্শনী অভিভাবক, শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সিনেমা দেখার জন্য কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য না থাকলেও গত বছরের ন্যায় এ বছরও মাস্ক পরিধানকে চলচ্চিত্র উৎসবের টিকেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই চলচ্চিত্র উৎসবে ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩৮টি দেশের নানান স্বাদের চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পাবে, উৎসব উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিনা মূল্যে যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে উৎসব কর্তৃপক্ষ। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র দেখানো হবে।

এবারও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে আছে বাংলাদেশি শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগটি। এই বিভাগে এবার ২৫টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে নির্বাচিত ৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এই ৯টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ৩টি চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবে। পুরস্কার হিসেবে থাকছে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আর্থিক প্রণোদনা। পুরস্কারের জন্য গঠিত ৩ সদস্যের জুরি বোর্ডের সবাই শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ছোটদের নির্মিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো বাছাই করবে ছোটরাই।

এবারও ‘ইয়াং বাংলাদেশি ট্যালেন্ট’ শীর্ষক বিভাগটি রয়েছে যেখানে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতারা অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও ‘সামাজিক চলচ্চিত্র’ বিভাগে এবারের বিষয় ছিল ‘নিরাপদ ইন্টারনেট’, এই বিভাগে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী থাকছে। একই সাথে রয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ, এ বিভাগে জমা পড়েছিল ৯০টি দেশের ২১০০ চলচ্চিত্র, যার মধ্য থেকে উৎসব কমিটির দ্বারা প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশসহ আরও ৩৮টি দেশের মোট ১১৭টি চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রগুলো বিচার করার জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, শবনম ফেরদৌসীকে সদস্য করে আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আবু শাহেদ ইমন, রাকা নওশিন নাওয়ার ও ফখরুল আরেফিন খানকে সদস্য করে ‘ইয়াং বাংলাদেশি ট্যালেন্ট’ বিভাগের চলচ্চিত্র বিচার করার জন্য একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিভিন্ন দেশের শিশুদের বানানো চলচ্চিত্র নিয়ে থাকছে প্রতিযোগিতা বিভাগ, যেখান থেকে একটি চলচ্চিত্রকে পুরস্কার দেওয়া হবে। উৎসবে খুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনার এর আয়োজন করা হয়েছে। এবারেও মোট ৪টি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। ৬ মার্চ সকাল ১১টায় আগত খুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ডিস্ট্রিবিউশন এর ওপর কর্মশালা নেবেন চলচ্চিত্র প্রযোজক আরিফুর রহমান, সন্ধ্যা ৬টায় খুদে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাথে সেলিব্রেটি আড্ডায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।