ইউক্রেনে ২২শ’রও বেশি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে রাশিয়া

ইউক্রেনে চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ২২০০-রও বেশি সামরিক স্থাপণা ধ্বংস করেছে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন।

কোনাশেনকভ বলেন, ‘ইউক্রেনে সর্বমোট ২ হাজার ২০৩টি সামরিক স্থাপণা ধ্বংস করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ৭৬ টি কমান্ড পোস্ট ও কমিউনিকেশন সেন্টার, ১১১টি অ্যান্টি এয়ারক্রাফট মিসাইল সিস্টেম ও ৭১ টি রাডার সিস্টেম, ৯৩ টি যুদ্ধ বিমান, ৭৭৮টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান, ৭৭টি মাল্টিপল রকেট লাঞ্চার, ২৭৯টি মর্টার, ৫৫৩টি বিশেষ সামরিক যান ও ৬২টি ড্রোন উল্লেখযোগ্য’।

এছাড়া ইউক্রেনের প্রিইউৎনয়, জাভিত্নে-বাঝান্নে, স্তারোমলিয়ানোভকা, অক্তায়াব্রসকোয়ি, নোভোমায়াস্কয়ি শহরের সেনা নিবাস ও সেনা ছাউনি থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের হটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই মুখপাত্র।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন আজ ১২তম দিনে গড়িয়েছে। বিশাল এক রুশ সেনা বহর গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে দেশটির রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। মাঝখানে কিছু সময় সেই সেনা বহর থমকেও গিয়েছিল। তবে আজ আবার সেই সেনা বহর উত্তর ও পশ্চিম দিক থেকে কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিয়েভকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তারপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে রুশ সেনাদের।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে ঢুকে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে বৃষ্টির মতো।

সর্বাত্মক হামলা শুরুর পর এক সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বহু শহর কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। সামরিক অবকাঠামোর বাইরে রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আবাসিক ভবন, স্কুল ও হাসপাতাল। যার ফলে অন্তত ১৫ লাখ মানুষ ইতিমধ্যেই ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছেন। এছাড়াও দেশটিতে শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে আছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুও।

ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলহা স্টেফানিশনিয়া রাশিয়ার ‘সন্ত্রাসী পরিকল্পনার’ আরেকটি তরঙ্গ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

তিনি বিবিসিকে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠছে এবং ইউক্রেনের শহরগুলোর হাসপাতাল এবং কিন্ডারগার্টেনগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য ইউক্রেনের দৃঢ় সংকল্প রয়েছে। এটিই যুদ্ধের শেষ নয়।

তিনি বলেন, প্রচুর রুশ সেনাদের প্রাণহানিসহ রাশিয়ার ‘বিশাল ক্ষয়ক্ষতি’ও ভ্লাদিমির পুতিনকে নিরুৎসাহিত করছে না বরং আরও উৎসাহিত করছে।

কয়েক বছর আগে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করে ইউক্রেন। তারপর থেকেই এই ব্যাপারটিকে ঘিরে দ্বন্দ্ব শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে।

এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রত্যাহারে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে গত দুই মাস রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রেখেছিল মস্কো।

কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে আসেনি। উপরন্তু এই দু’মাসের প্রায় প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে গেছে- যে কোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রুশ বাহিনী।

অবশেষে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেতস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া; এবং তার দু’দিন পর, ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।