সাকিব সমস্যার কি সমাধান নেই!

বিদেশ সফর হোক কিংবা ঘরের মাঠ বাংলাদেশ দলের কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ এলেই সমস্যাটাও ফিরে ফিরে আসে। সাকিব আল হাসান খেলবেন কি খেলবেন না তাই নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়। মিডিয়াসহ বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। সাকিব খেললেও খবরের শিরোনাম হয়। না খেললে আরও বেশি।

এবারও তাই হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সাকিব যাবেন কিনা তাই নিয়ে যথারীতি সংশয় তৈরি হয়েছে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান কদিন আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলার সময় জানিয়ে দেন সাকিব টেস্ট-ওয়ানডে দুই-ই খেলবে। তাকে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট-ওয়ানডে দলও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু রবিবার রাতে দুবাইয়ে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাকিব জানান, ‘মানসিক ও শারীরিকভাবে যে অবস্থায় আছি, মনে হয় না আমার পক্ষে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সম্ভব। এ কারণেই আমার মনে হয় যদি একটা বিরতি পাই, যদি ওই আগ্রহটা ফিরে পাই, তাহলে আমার জন্য খেলাটা সহজ হবে।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে ক্রিকেট ‘উপভোগ’ করেননি বলেও জানিয়েছেন সাকিব।

অতিরিক্ত ক্রিকেট তাকে ক্লান্ত করতেই পারে। জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে অবসাদগ্রস্তও হতে পারেন তিনি। কিন্তু এবারের আইপিএলে দল পেলে সাকিব কী করতেন? তিনি তো বিসিবিকে আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলবেন বলে ছুটির আবেদনও করে রেখেছিলেন। তখনো কি একইভাবে ‘আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে যে অবস্থায় আছি’ বলে ছুটি কাটাতেন সাকিব?

তারকাদের না পাওয়ার সমস্যা শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটের একার নয়। সারা দুনিয়াতেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাপটে জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলতে চান না তারা। কোনো কোনো বোর্ড আলোচনা এবং বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধানও করে। সেটাই হওয়া উচিত। সাকিবের ক্ষেত্রে বিসিবি যা করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ। সাকিব যেহেতু দল পাননি, তাই এবার আইপিএল কোনো ইস্যু নয়। তবু সাকিবকে নিয়ে সমস্যা তৈরি হলো। সেটা যথারীতি দুই বিপরীতধর্মী বিবৃতির মাধ্যমে বাইরেও এলো। কার দোষ সেই প্রশ্ন না তুলেও বলা যায় বোর্ড দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাকিব-সমস্যার সমাধান করতে পারত। মুখোমুখি আলোচনার সুযোগ কি ছিল না? বিসিবির ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলছিলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে বোর্ড যদি দুইপক্ষের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করত তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। সাকিব সে কথা বলেছেও। লম্বা সময়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাকে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে সেসব নিয়ে যদি একটা রূপরেখা তৈরি থাকে তাহলে ক্রিকেটারদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়। সাকিব না খেললেও বিকল্প কী হতে পারে, বা কোন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হবে সেটাও ভাবা দরকার। আর খেললে কীভাবে দল তৈরি হবে সেটাও জরুরি। যদি সাকিব একেবারেই না খেলতে চায় তাহলেও সমস্যাটার সমাধান করার কথা বোর্ডের ভাবা উচিত। বলতে চাচ্ছি সাকিবকে নিয়ে একটা স্থিতিশীল অবস্থায় যাওয়া দরকার। আমরা কিন্তু সমস্যাটা বয়ে চলতে দিচ্ছি। এটা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষতি করছে।’