কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনে ছাত্রলীগের ৪ জন বহিষ্কার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ নিহাদকে নির্যাতনের ঘটনায়   ছাত্রলীগের ৪ জনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল উপাচার্যের কক্ষে সাড়ে ৩টা থেকে ৮ ঘণ্টা ধরে চলা শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

বহিষ্কৃত ৪ শিক্ষার্থী হলেন- ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী আবু নাঈম আব্দুল্লাহ, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালন বিদ্যা বিভাগের মোমেন সরকার ও তানভীর আহমেদ তুহিন এবং নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল হক হিমেল।

বহিষ্কৃত ৪ জনই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা  ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবের অনুসারী। অভিযুক্তদের মধ্যে আবু নাঈম আব্দুল্লাহ ওরফে যাযাবর নাঈম সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী হলেও দায়িত্বে রয়েছেন কলা অনুষদ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির বঙ্গবন্ধু হলের ৬০৮ নং কক্ষ থেকে ডেকে ৩২৪নং কক্ষে নিয়ে কলা অনুষদ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু নাঈম আব্দুল্লাহ ওরফে যাযাবর নাঈম এর নেতৃত্বে ওয়ালিদ নিহাদকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে বিচার চেয়ে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরপর তদন্ত শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন।

তদন্ত  প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি ৪ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে এবং কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না জানতে চেয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর কথাও রয়েছে সিদ্ধান্তে। এ ছাড়া তাদের হলের আবাসিক সিট বাতিল করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের আবু সোলায়মান নাঈম এর আবাসিক সিট বাতিলসহ সতর্কীকরণ চিঠি প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নির্যাতন করা ৩২৪নং কক্ষের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী ছনিক মিয়া, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মোজাহিদ হোসেন সজীব এবং পপুলেশন সায়েন্সে এর মো. সৌরভ হোসেন এর ৩২৪নং কক্ষের সিট বাতিল করার সিদ্ধান্তও নেয় সেই সভা।

শাস্তিসহ সিদ্ধান্ত সমূহ জানিয়ে জড়িত শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছেও ডাকযোগে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির শৃঙ্খলা কমিটি।

এছাড়াও কেউ যদি শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত না মেনে বিশৃঙ্খলা করতে চায় এবং এ রকম কর্মকাণ্ড যদি ভবিষ্যতেও করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেয় শৃঙ্খলা বোর্ড।

শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, আমার সভাপতিত্বে সভাটি হয়েছে। তদন্তের আলোচনা পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন ও নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে। অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না। সেখানে প্রশাসন কঠোর হবেই।এভাবেই চলবে এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়।

কারণ দর্শানোর নোটিশসহ প্রশাসনিক চিঠি ইতিমধ্যে পাঠানো হয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর।

এদিকে নির্যাতনের শিকার ওয়ালিদ নিহাদের বড় ভাই আব্দুল আজিজ জিহাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তর দিকে তাকিয়ে আছি। পাশাপাশি আমার ভাই যেন নিরাপদভাবে শিক্ষা-কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে সেটিই চাই।

শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আমরাও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। আজ মঙ্গলবার উত্তর দেয়ার সময় শেষ হবে। এরপরই সংগঠনের জায়গা থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আমাদের অবস্থান জানানো হবে।