প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের সাত রাউন্ড শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত পারফরম্যান্সে অনেকটাই এগিয়ে ভিনদেশিরা। নিয়মিত গোল করে তারাই হয়ে উঠছেন ম্যাচের নায়ক। ভিনদেশিদের একচ্ছত্র আধিপত্যে এবারও মøান স্থানীয়রা। জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা ফরোয়ার্ডদের পায়ে গোল নেই। সুযোগ না পাওয়ার পুরনো অভিযোগ এবারও আছে। তারপরও বিদেশিদের ভিড়ে অনেকে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারছেন না। জাতীয় দলের ম্যাচ যখন কড়া নাড়ছে তখন ফের উঠছে পুরনো প্রশ্ন : লাল-সবুজ জার্সিতে গোলটা করবেন কে?
২৪ ও ২৯ মার্চ মালদ্বীপ ও মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে দুটি ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দু’ম্যাচ সামনে রেখে ১৯ মার্চ জাতীয় দলের নতুন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা শুরু করবেন সংক্ষিপ্ত ক্যাম্প। তার আগে চলতি লিগকে পাখির চোখ করেছেন স্প্যানিশ কোচ। লিগের সেরাদের ক্যাম্পে কাছ থেকে দেখতে চান তিনি। এ মাঠ, ও মাঠ ঘুরে অবশ্য খুব যে স্বস্তি পাচ্ছেন তা নয়। ৭ রাউন্ডের পরিসংখ্যানও আশাজাগানিয়া নয়। এখন পর্যন্ত ৪২ ম্যাচে গোল হয়েছে ১১১টি। যার ৮৬টিই এসেছে বিদেশিদের পা থেকে। অর্থাৎ মোট গোলের ৯৫ শতাংশই করেছেন বিদেশিরা। ২৪ গোল করেছেন স্থানীয় ২২ জন মিলে। একটি হয়েছে আত্মঘাতী গোল। গোলদাতার তালিকার সেরা দশে নেই বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়। স্থানীয়দের মধ্যে একাধিক গোল করেছেন মাত্র একজন। উত্তর বারিধারার তরুণ ফরোয়ার্ড সুজন বিশ্বাসের আছে ৩ গোল। এর বাইরে ২১ জন স্থানীয়র একটি করে গোল। জাতীয় দলের আক্রমণভাগের নিয়মিত মুখদের মধ্যে একটি করে গোল আছে নাবিব নেওয়াজ জীবন, সুমন রেজা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জুয়েল রানা, তৌহিদুল আলম সবুজদের। নাগরিকত্ব বদলে বাংলাদেশি হওয়া এলিটা কিংসলেও কিংসের হয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে পারছেন না। তিনিও করেছেন ৭ ম্যাচে এক গোল।
গোল করার সেরার লড়াইটা সীমাবদ্ধ বিদেশিদের মধ্যে। সর্বোচ্চ ৮ গোল করে শীর্ষে আছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর নাইজেরিয়ান মার্কসম্যান পিটার থ্যাঙ্কগড। ৭ ম্যাচে একটি হ্যাটট্রিকও আছে ২৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের। হ্যাটট্রিক না পেলেও শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসকে বলতে গেলে একাই টেনে নিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার রবসন রবিনহো। প্রথম দু’ম্যাচে গোল না পেলেও পরের ৫ ম্যাচে ৬ গোল করে তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে কিংসের আক্রমণের প্রাণভোমরা। চোটের কারণে তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেননি আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান নাম্বার নাইন ডরিয়েলটন গোমেজ। স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা অবশ্য চার ম্যাচেই ৬ গোল করে আছেন সেরার লড়াইয়ে। সমান গোল আছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের গাম্বিয়ান অধিনায়ক সলমন কিং ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের এমেকা ওগবাহর। মোহামেডানের মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতের অ্যাকাউন্টে আছে ৫ গোল। আর চার গোল করে আছে শেখ জামালের নাইজেরিয়ান চিনেদু ম্যাথিউ, রহমতগঞ্জের সানডে চিজোবা ও পুলিশ এফসির হয়ে শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা আফগান ফরোয়ার্ড আমিরউদ্দিন শরিফির। লিগে এখন পর্যন্ত হওয়া চারটি হ্যাটট্রিকও করেছেন চার বিদেশি।
শিরোপা লক্ষ্যে বড় বাজেটের দলগুলো গোলের প্রশ্নে আস্থা রাখেন বিদেশিদের ওপর। ফলে সেভাবে খেলার সুযোগ হয় না অনেক স্থানীয়র। যেমন এই লিগে একেবারেই প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন না বসুন্ধরার জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল। এছাড়া চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় মতিন মিয়াও অনিয়মিত। বারিধারা ছেড়ে তারকাখচিত কিংসে গিয়ে সুমন রেজাও যেন খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না। দলে নিজের প্রিয় নাম্বার ৯ পজিশনে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। আবাহনীর হয়ে নিয়মিত খেললেও পজিশন বদলে গেছে দীর্ঘদিন পর চোট থেকে ফেরা জীবনের। ফলে গোলের চেয়ে বলে জোগানেই বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে তাকে।
লিগের পারফরম্যান্স ধরলে এগিয়ে রাখতে হবে কিংসের রাইট উইঙ্গার মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আবাহনীর জুয়েল রানাকে। আবাহনীর লেফট উইঙ্গার রাকীব হোসেনও ভালো করছেন। তবে এই তিনজনের মূল কাজ অ্যাসিস্ট করা। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় গোল করানোর পাশাপাশি লাল-সবুজ জার্সিতে গোলের দায়িত্বও নিতে হবে তাদের।