রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞার পর বিকল্প উৎস খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনে আগ্রাসনের ফল হিসেবে রুশ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানিতে তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এসব পণ্য আমদানি বন্ধের কথা বলছে যুক্তরাজ্য। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে। এই দরবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনেও।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা।

গতকাল মঙ্গলবার বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোয় রুশ তেল আর গ্রহণযোগ্য হবে না। ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানিকারক রাশিয়া। দেশটি দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের ৭ শতাংশ।

আমেরিকান ফুয়েল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাশিয়া থেকে দৈনিক গড়ে ২ লাখ ৯ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং ৫ লাখ ব্যারেল অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জ্বালানি তেল আমদানির ৩ শতাংশ, আর রাশিয়ার মোট রপ্তানিরও ৩ শতাংশ। বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঝুঁকি নিতে পারে। বর্তমান মুদ্রা বিনিময় হার বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও ইউরোপের জন্য কঠিন হবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার মোট রপ্তানির অঙ্ক মোটেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়, আল জাজিরাকে বলেছেন বিশ্লেষক করনেরিয়া মেয়ের।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পথে ইউরোপ হাঁটলে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। উল্লেখ্য, চীন ও ভারত রুশ তেল কিনতে আগ্রহী হতে পারে।

রুশ তেল-গ্যাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে- এ আশঙ্কায় গত মাসে তেলের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটে গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বেচাকেনার একপর্যায়ে ১৩৯ ডলার ছাড়ায়। এখন এ দর ১৩০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে এভাবে রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে থাকলে প্রতি ব্যারেল পণ্যের দাম ১৬০ ডলার এমনকি ২০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে থেকেই তেলের বিকল্প উৎস সন্ধান করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করতে ভেনেজুয়েলা গিয়েছে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। রাজনৈতিক কারণে ভেনেজুয়েলা থেকে ২০১৯ সাল থেকে তেল আমদানি বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধও করতে চাইছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি।