অষ্টম শ্রেণি : শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

পঞ্চম অধ্যায় : জীবনের জন্য খেলাধুলা

সাধারণ প্রশ্ন

১. অ্যাথলেটিকসের ইভেন্টসমূহকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? ধারাবাহিকভাবে লেখো।

ভূমিকা : পৃথিবীতে যত ধরনের খেলাধুলা আছে, তার মধ্যে দৌড়, লাফঝাঁপ ও নিক্ষেপই সবচেয়ে প্রাচীন। আদিমযুগে মানুষ নিজেকে বাঁচানোর জন্য দৌড়াত, বাধা অতিক্রম করতে লাফ দিত, শিকার বা শত্রু ঘায়েল করতে বর্শা বা পাথর নিক্ষেপ করত। পরে মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তনে এই দৌড়, লাফঝাঁপ ও নিক্ষেপ ক্রীড়ায় রূপান্তরিত হয়েছে, আবদ্ধ হয়েছে নিয়মের বেড়াজালে। দৌড়, ঝাঁপ ও নিক্ষেপই এখন অ্যাথলেটিকস নামে পরিচিত।

অ্যাথলেটিকসের ইভেন্টসমূহ : অ্যাথলেটিকসের ইভেন্টসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন

১. ট্র্যাক ইভেন্ট                ২. ফিল্ড ইভেন্ট

অ্যাথলেটিকসের ইভেন্টসমূহের ধারাবাহিকতা

১. ট্র্যাক ইভেন্ট : সব ধরনের দৌড় ও হাঁটা ট্র্যাক ইভেন্টের অন্তর্গত। যেমন

i. স্বল্প দূরত্বের দৌড় : ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট, ১০০ মিটার হার্ডেল (মহিলা), ১১০মিটার হার্ডেল (পুরুষ), ৪দ্ধ১০০ মিটার রিলে, ৪০০ মিটার হার্ডেল।

ii. মধ্যম দূরত্বের দৌড় : ৮০০ মিটার দৌড়, ১৫০০ মিটার দৌড়, ৪দ্ধ৪০০ মিটার রিলে।

iii. দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় : ৩০০০ মিটার স্টিপল চেজ (পুরুষ), ৫০০০ মিটার দৌড়, ১০০০০ মিটার দৌড়, ম্যারাথন দৌড়, ২০ কিলোমিটার হাঁটা, ৫০ কিলোমিটার হাঁটা (পুরুষ)।

২. ফিল্ড ইভেন্ট : সব ধরনের লাফ ও নিক্ষেপসমূহ ফিল্ড ইভেন্টের অন্তর্গত। যেমন

i. লাফসমূহ : দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ ও ত্রি-লাফ (ট্রিপল জাম্প)

ii. নিক্ষেপসমূহ : গোলক নিক্ষেপ, বর্শা নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ ও হাতুড়ি নিক্ষেপ।

যবনিকা : মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তনে দৌড়, লাফঝাঁপ ও নিক্ষেপ এখন অ্যাথলেটিকস নামে পরিচিত, যা আজকের দিনে সুস্থ জীবন, বিনোদন, সম্মান অর্থ উপার্জনের একটি স্বীকৃত মাধ্যম।

২. বাস্কেটবল খেলায় ফাউল এবং ভায়োলেশন কী? বাস্কেটবল খেলার ৫টি ভায়োলেশন ব্যাখ্যা করো।

ভূমিকা : বাস্কেটবল খেলার প্রথম প্রচলন শুরু হয় ১৮৮১ সালে আমেরিকায়। এই খেলার জনক হলেন আমেরিকার স্প্রিংফিল্ডে ওয়াই.এম.সি.এ কলেজের শারীরিক শিক্ষার পরিচালক জেমস নেইসমিথ। ১৯৩২ সালে জার্মানিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা (FIBA) গঠিত হয়।

ফাউল এবং ভায়োলেশন : যদি একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিপক্ষ একজন খেলোয়াড়ের ইচ্ছাকৃত সংঘর্ষ হয় তাহলে সেটা ফাউল আর ভায়োলেশন হচ্ছে আইন অমান্য করা অর্থাৎ খেলার বিবিধ নিয়ম ভঙ্গ করাকেই ভায়োলেশন বলে।

ভায়োলেশনের ব্যাখ্যা

১. ৩ সেকেন্ড : খেলা চলাকালে যে দলের নিয়ন্ত্রণে বল থাকবে সে দলের কোনো খেলোয়াড় বলসহ বা বলছাড়া বিপক্ষ দলের নিষিদ্ধ এলাকায় ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় থাকলে ৩ সেকেন্ড ভায়োলেশন হয়।

২. ৫ সেকেন্ড : খেলা চলাকালে ৫ সেকেন্ড ভায়োলেশন হবে যদি

ক. ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় বল পাস বা ড্রিবলিং না করে বল ধরে রাখে

খ. ৫ সেকেন্ডের বেশি বল ধরে স্কোরের উদ্দেশ্যে বল থ্রো না করে

গ. খেলা পুনরায় শুরু করতে রেফারির বল স্পর্শের পর থ্রো করতে ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে

৩. ৮ সেকেন্ড : খেলা চলাকালে যে দলের নিয়ন্ত্রণে বল থাকবে সে দলকে অবশ্যই ৮ সেকেন্ডের মধ্যে বিপক্ষ দলের সীমানায় বলসহ প্রবেশ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে বিপক্ষ দলের সীমানায় ঢুকতে না পারলে ভায়োলেশন হবে।

৪. ২৪ সেকেন্ড : খেলা চলাকালে একটি দল ২৪ সেকেন্ডের বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বল রাখলে ২৪ সেকেন্ড ভায়োলেশন হবে।

৫. কেরিং : বিনা ড্রিবলিংয়ে বল নিয়ে দুই স্টেপের বেশি হাঁটলে বা দৌড়ালে ভায়োলেশন হবে।

৬. ডবল ড্রিবলিং : দুই হাত দিয়ে বল ড্রিবলিং করলে ভায়োলেশন হবে।

শাস্তি : ভায়োলেশনের শাস্তি হলো বিপক্ষ দল বলের দখল পাবে, পার্শ্ব বা প্রান্তরেখা থেকে থ্রো-ইনের মাধ্যমে খেলা শুরু করবে।