চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের স্টোর থেকে আনা ওষুধ সরবরাহ ও রোগীদের মাঝে বণ্টনের ক্ষেত্রে গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হাসপাতালে প্রায় চার ঘণ্টা অভিযানের পর দুদক কর্মকর্তারা বলেছেন, যত রোগীকে বিনামূল্যের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি ওষুধ স্টোর থেকে ফার্মেসিতে নেওয়া হচ্ছে।
দুদকের হটলাইন ১০৬ নাম্বারে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে অভিযানে নামে দুদকের চার সদস্যের একটি দল। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা চমেকের স্টোর ও ফার্মেসিতে ওষুধ সরবরাহের নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে গিয়ে বেশ কজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে এ গরমিলের চিত্র পান।
অভিযান শেষে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াত বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের সরবরাহের জন্য হাসপাতালের স্টোরে ওষুধ মজুদ করে রাখা হয়। সেখান থেকে ফার্মেসিতে নেওয়া হয়। এরপর ওয়ার্ডে রোগীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। আমরা ফার্মেসি আর অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে গিয়ে ওষুধ সরবরাহ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারের তথ্য গরমিল পেয়েছি। সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। পরে দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই পরবর্তী কার্যক্রম করা হবে।’
ওষুধ সরবরাহ ও বণ্টনে কী ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে জানতে চাইলে দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘হাসপাতালের স্টোরের স্টক থেকে প্রথমে ওষুধ ফার্মেসি নেওয়া হয়। স্টোর থেকে ওষুধ নেওয়া এবং পরে রোগীদের মাঝে বণ্টনের হিসাবটা আমরা সন্তোষজনকভাবে পাইনি। ধরেন, প্রতিদিন ১০০ রোগীর জন্য চাহিদা দেওয়া হচ্ছে অথচ রোগীর সংখ্যা ৩০ জন কম বা বেশি। তাহলে কম হলে বাকি ওষুধের হিসাব বা বেশি হলে কীভাবে বণ্টন হয়, সেই হিসাবটা তারা পরিষ্কারভাবে দিতে পারেনি।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওষুধ স্টোর শাখার ইনচার্জ ডা. হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাহিদাপত্র জমা দিয়ে প্রতিদিন স্টোর থেকে ফার্মেসিতে ওষুধ আনা হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, রোগী বেশি হয়ে গেছে। তখন স্টোর থেকে আবারও ওষুধ আনা হয়। পরদিন সমপরিমাণ ওষুধ কম দিয়ে হিসাব ঠিক রাখা হয়। এটি আরও স্বচ্ছ করার জন্য দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন।’
এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের গোলচত্বর থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধসহ ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মচারী আশু চক্রবর্তী ও আউটসোর্সিং কর্মচারী মো. সৈয়দকে আটক করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের সরকারি ওষুধ পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।