ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জারি করা নানা নিষেধাজ্ঞায় এরই মধ্যে রুশ অর্থনীতি প্রভাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন লন্ডন বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ লিন্ডা ইউয়েহ।
তিনি বলেন, রাশিয়ায় সুদের হার বেড়ে এর মধ্যে ২০% এ উন্নীত হয়েছে, যার ফলে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
মিজ ইউয়েহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা বন্ধ করার যে পরিকল্পনা করছে, তা বাস্তবায়িত হলেও রুশ অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে।
রুশ অর্থনীতি ১২% সঙ্কুচিত হওয়ার সম্ভাবনার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা রাশিয়ার মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে, বলছেন অর্থনীতিবিদ মিজ. ইউয়েহ।
ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাপী তাদের মিত্রদেশগুলোর কাছ থেকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু ছাড়াও চাপ বাড়ছে বাণিজ্যিক ভাবেও। এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভবত ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের’ মর্যাদা হারাতে যাচ্ছে রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও গ্রুপ অব সেভেন বা জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ হিসেবে বাণিজ্য সুবিধা পেত রাশিয়া। কিন্তু ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর কারণে সেসব সুবিধা এখন প্রত্যাহার করা হতে পারে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১৫) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোকে’ আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো ধরনের নীতিগত বৈষম্যের সম্মুখীন করা যায় না।
ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর সম্প্রতি অ্যাপল, জারা, এইচঅ্যান্ডএমসহ কয়েকটি বৈশ্বিক কোম্পানি রাশিয়ায় বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে আছে- কোকাকোলা, পেপসি, স্টারবাকস, ম্যাকডোনাল্ড, সুইডেনভিত্তিক আসবাব নকশা ও গৃহসজ্জা পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আইকিয়া, ইলেকট্রনিকসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস বারবেরি ও অনলাইন ফ্যাশন খুচরা বিক্রেতা বুহু, ব্রিটিশ বহুজাতিক গাড়ি কোম্পানি রোলস রয়েস, অ্যাস্টন মার্টিন ল্যাগোন্ডা ও জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক গাড়ি নির্মাতা জেনারেল মোটরস ও অনলাইন স্ট্রিমিং পরিষেবা কোম্পানি নেটফ্লিক্সের মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো।
এছাড়া, রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ওপর বেলজিয়ামভিত্তিক আন্তঃব্যাংক আর্থিক লেনদেনের বার্তা প্রেরণের সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক সুইফটও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে করে বিদেশে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝামেলায় পড়েছে দেশটি।
এদিকে, রাশিয়া বিভিন্ন দেশে তৈরি দু শ’র বেশি পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ এসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া।
গাড়ি, রেলের বগি, কন্টেইনার, টারবাইন, টেলিকম, কৃষি পণ্য, বৈদ্যুতিক এবং প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি এতদিন বিদেশ থেকে রাশিয়ায় রপ্তানি করে আসছে।
রাশিয়া সরকার বৃহস্পতিবার এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।