ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ার পর সহোদর দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে আলাদা দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের কমিটি দুটি গঠন করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিটিতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মহিউদ্দিনকে প্রধান করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন ও ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রফিক-উস-ছালেহীন।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূপুর সাহাকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরেকটি পরিদর্শন কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমওডিসি ডা. হাবিবুল ইসলাম ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. সাহেদ মিয়া।
এই তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. নূপুর সাহা গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি কয়েকবার। ভিসেরা রিপোর্ট ও ওষুধ প্রশাসনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা প্রতিবেদন তৈরি করব।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ একরাম উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। আজ থেকেই (গতকাল) তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের টিমও কাজ করছে।’
এদিকে নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েই এলাকা পরিদর্শন ও ওষুধের স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে ঔষধ প্রশাসনের প্রতিনিধিদল। গত শুক্রবার রাতেই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হোসাইন বিন ইমরানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে যায়। তারা দুর্গাপুর এলাকার মা ফার্মেসির তালা খুলে কয়েকটি প্যারাসিটামল সিরাপের নমুনা নিয়ে যায়।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্যারাসিটামল সিরাপ বিক্রি বন্ধ রেখেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি। গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করে তারা।
এ প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার গতকাল সন্ধ্যার পর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ওই কোম্পানির সিরাপ বিক্রি বন্ধ রেখেছি। এ নিয়ে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ রাখব।’
প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ার পর দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দুর্গাপুর গ্রামের মা ফার্মেসি তালা লাগিয়ে রেখেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফার্মেসির মালিক নিখোঁজ ছিলেন।
আশুগঞ্জ থানার ওসি আজাদ রহমান গতকাল সন্ধ্যার পর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই ফার্মেসির মালিক পালিয়ে যায়। এরপর এলাকাবাসী ফার্মেসিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আমরা এলাকায় গিয়ে নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবি নিয়ে এসেছি।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আশুগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামে নাপা সিরাপ খাওয়ার পর ইয়াছিন খান (৭) ও মোরসালিন খান (৫) নামে দুই সহোদর শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।