কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে বিক্ষোভ

ওয়ালিদ নিহাদের পর এবার সংগীত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র দেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে দোষীর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শতাধিক শিক্ষার্থী।  

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ২০৪ নম্বর কক্ষে নির্যাতন করা হয়ে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর রবিবার দুপুরে লিখিত অভিযোগ দেন সাগর চন্দ্র দে। পরে স্মারকলিপিতে আহত শিক্ষার্থীর পক্ষে বিচার চান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

নির্যাতনের ঘটনায় চারুকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌমিক জাহানের নাম উঠে এসেছে।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মোহাম্মদ ইরফান আজিজ।

নির্যাতনের অভিযোগে রবিবার সকাল ৯টা থেকে কলা ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কলা ভবন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নেয়। তারা তালা ঝুলিয়ে দেয় ভবনটির মূল ফটকেও ।

তবে আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যেতে আহ্বান জানান শিক্ষকরা। তারা দোষীর শাস্তি হবে বলে আশ্বাসও দেন। এ সময় শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন আহমেদুল বারী, ছাত্র পরামর্শক ড. তপন কুমার সরকার, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইরফান আজিজ, অগ্নিবীণা হলের প্রভোস্ট কল্যাণাংশু নাহা , শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান (তুহিন অবন্ত) প্রমুখ।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক জালাল উদ্দিনের আশ্বাসে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা। তারা রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় জয় বাংলার মোড়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে এবং সোমবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাঈফ বলেন, লোক দেখানো শাস্তি নয় কার্যকর শাস্তি চাই। ইতিমধ্যে একটি পক্ষ আহত শিক্ষার্থীর বক্তব্য পরিবর্তন করতে বলেছে। চাপ সৃষ্টি করছে তার পরিবারের ওপর।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মোহাম্মদ ইরফান আজীজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যে অভিযোগ পেয়েছি সেটি মূলত রেজিস্ট্রার এবং হল প্রভোস্টকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া। তাই এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তবে শনিবার রাতে হল প্রশাসন থেকে যে তদন্ত কমিটি হয়েছে, সেটির কাজ আমরা করছি। দ্রুতই প্রতিবেদন আমরা জমা দিতে পারব বলে আশা করি।

হল প্রভোস্ট কল্যাণাংশু নাহা বলেন, আমি চিঠি দেখিনি। আগে চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করি এবং দেখি তারপর বলা যাবে। তবে হল থেকে যে তদন্ত কমিটি করেছি সেটির কাজ চলছে।

রবিবার সকাল থেকে কলা অনুষদের ভবনে তালা দেওয়ায় সংগীত, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগের পরীক্ষা হয়নি। বন্ধ ছিল পাঠদান কার্যক্রমও।

এর আগে গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির বঙ্গবন্ধু হলের ৩২৪ নম্বর কক্ষে ওয়ালিদ নিহাদ নামের এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জড়িত চার শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। এরই  মধ্যে নতুন করে সংগীত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র দে’র ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।