দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ ভোজ্য তেল মজুত প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সয়াবিন তেলের দাম সহনীয় রাখতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নেবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি গুজবের বিষয় নিয়ে সতর্ক থাকতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকটি প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলে। 

জানা গেছে, বৈঠকে সভাপতিত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ ছাড়া কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, অর্থ, বাণিজ্য, খাদ্য, কৃষি, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদ, র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক শেষে বলেন, আমরা জানাতে চাই, এ (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি) সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধুতা যেন প্রশ্রয় না পায়। এ জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োজিত করে। আমরা দু-এক দিনের মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করব, যাতে কেউ সুযোগটা না নিতে পারে।“

মূল্য কোনটা হওয়া উচিত তা সরকার ‘অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বেশি নেয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু আমরা অ্যাকশনে যাব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে যেখানে এই (অবৈধ মজুত) প্রচেষ্টা করা হবে, সেখানে আমরা হস্তক্ষেপ করব। এমন না যে আজকে দাম বাড়ার কারণে তারা দাম বাড়িয়েছে, আসলে তারা আগের হিসাব ধরে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা সেটা বন্ধ করব।

নাম প্রকাশ না করে বৈঠকে উপস্থিত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা অপপ্রচার করছে। এই নিয়ে বৈঠকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গুজব রটিয়ে কেউ কেউ ফায়দা লোটারও চেষ্টা করছে বলে বৈঠকে বলা হয়েছে।

ইতিমধ্যে পুলিশের সব কটি ইউনিটকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিত্যপণ্যের মজুত নিয়ন্ত্রণসহ ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো বা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ওএমএস কার্যক্রম ও পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো এবং মজুত নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোজ্যতেল, চিনির ওপর কতখানি কমানো যায়, আমরা শিগগিরই একটা ঘোষণা দেব। আমরা প্রতিদিনই দেখছি দাম বাড়ছে। সেটার প্রভাব আমাদের দেশেও আসছে। আমাদের দেশে যেটা আসছে আপনারা লক্ষ্য করছেন। রোজার মধ্যে অন্যান্য জিনিসেরও দাম বাড়তে পারে-সেটা মাথায় রেখে আজকে আমরা বসছিলাম।

তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে জ্বালানির সরবরাহ, গ্যাসের সরবরাহ কিছু কিছু জায়গায় কমছে। সেটা সারা বিশ্বেই কমছে। আমাদের বাংলাদেশও সেইখানে এফেকটেড হচ্ছে কিংবা হবে। গমের সাপ্লাই- যেহেতু ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আসত, সেইখানেও আমরা একটা অসুবিধায় পড়তে পারি, দাম বৃদ্ধি করতে পারে। কীভাবে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব কিংবা একটা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারব, সে জন্য আজকের সভাটি হয়েছে।