দুই হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মালিকানাধীন ১২টি বাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সাউথ লাইন পরিবহনের বাসগুলো ‘বরকতের ডিপোতে’ পুলিশের জিম্মায় ছিল। ঘটনাটিকে নাশকতা উল্লেখ করে গত শনিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেছেন ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গফ্ফার। ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়।
এদিকে গতকাল রবিবার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক অতুল সরকার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২০ সালের ১৬ মে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৮ মে মামলা করেন সুবল সাহা। এ ঘটনার জের ধরে ২০২০ সালের ৭ জুন পুলিশের বিশেষ অভিযানে বরকত-রুবেল গ্রেপ্তার হন। ২৬ জুন বরকত-রুবেলের নামে ঢাকার কাফরুল থানায় দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করে সিআইডি।
ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে সাউথ লাইন পরিবহনের ২২টি বাস আলামত হিসেবে জব্দ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা। জব্দ করা বাসগুলো শহরের গোয়ালচামটের ওজোপাডিকো কার্যালয়ের সাজ্জাদ হোসেন বরকাতের ‘মালিকানাধীন’ একটি জায়গায় ছিল। সেগুলোর মধ্যে ১০টি ছিল শেড দিয়ে ঘেরা। আর ১২টি ছিল পাশের নিচু জমিতে, খোলা আকাশের নিচে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ১২টি বাস আগুনে পুড়ে যায়।
ওই ঘটনায় হওয়া মামলার বাদী আব্দুল গফ্ফার জানান, ঘটনাকে নাশকতা উল্লেখ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল ওই ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) মো. ইমদাদ হোসেনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হেলালউদ্দিন। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে গঠিত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য সুমন রঞ্জন সরকার জানান, ‘তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। বাসগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত নৈশপ্রহরী শেখ মোহাম্মদ আলীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ’