‘চোখের সামনে কত মৃত্যু দেখেছি. এমন নিষ্ঠুরতা কখনো দেখিনি’

শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখে হাসপাতালের সবার চোখে পানি এসেছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মোহাম্মদ সুজন জানান, ‘আমাদের চোখের সামনে কত মৃত্যু দেখেছি তাও এত কষ্ট পাইনি। কিন্তু মাতৃহারা পাঁচ বছরের শিশুকে এভাবে কেউ চোখ ক্ষতবিক্ষত করে নদীর পাড়ের কাদায় রেখেছে এমন নিষ্ঠুরতা কখনো দেখিনি’।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চরবালিথা এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর পাড় থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মাতৃহারা ওই শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সোমবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শিশুটির নাম আলিফ হোসেন ফারহান (৫)। সে চরবালিথা গ্রামের মঈনুদ্দীন সরদারের প্রথম পক্ষের ছেলে।

উদ্ধারকারী চরবালিথা গ্রামের আশিকুজ্জামান জানান, ‘আমি মরিচ্চাপ নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় উপুড় হয়ে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখি। পরে তাকে চিনতে পারি। তার চোখে ধারালো কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। আর ঠোঁট কেটে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। শিশুটি জানায় ‘তার মামী তাকে এ অবস্থা করেছে। তার খুব কষ্ট হচ্ছে।’

শিশুর বাবা মঈনুদ্দীন সরদার জানান, আমার প্রথম স্ত্রী শারমীন সুলতানা আত্মহননে মারা যাওয়ার পর ফারহান চরবালিথা গ্রামে তার নানি সকিনা খাতুনের কাছে থাকত। সৎ মায়ের অত্যাচার ছেলেটাকে যেন সইতে না হয়, তার জন্য নানির কাছে রাখা হয়েছিল।

সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পারভীন আক্তার বলেন, ফারহানের দুটো চোখই চূড়ান্ত খারাপ অবস্থায়। তার ঠোঁট, গলা ও গায়ের কয়েক জায়গায় ধারালো কোনো কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজিব খান জানান, আমরা ঘটনা জানার সঙ্গেই সঙ্গেই কয়েকটি টিম নিয়েই অপারেশনে অ্যাকটিভ আছি। ইতিমধ্যে তার মামিকে আটক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে হয়েছে।