রাজধানীর আদাবর শনিরবিল হাউজিংয়ের প্রেম গলির একটি বাসায় দুই শিশুর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগের তীর আপন ভগ্নিপতির দিকে। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন বলেন, দগ্ধ শিশু হচ্ছে মিতু (৮) ও বাপ্পিকে (৫) ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মিতুর শরীরের ৯৮ শতাংশ ও তার ছোট ভাই বাপ্পির শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। মিতুর অবস্থা আশঙ্কাজনক, জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, পেশায় রিকশাচালক আলাউদ্দিন দুই বিয়ে করেছেন। ছোট স্ত্রী মৌ (দগ্ধদের বোন) গার্মেন্টসে কাজ করেন। ঘটনার সময় শিশুদের বোন মৌ বাসায় ছিলেন না। আদাবর এলাকায় পাশাপাশি মৌয়ের মা-বাবা থাকেন। মঙ্গলবার মিতু এবং বাপ্পিকে তাদের বাসা থেকে ডেকে আনে আলাউদ্দিন। এরপরই এ ঘটনা ঘটেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই বিয়ে করার কারণে আলাউদ্দিনের সংসারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। মিতু এবং বাপ্পি বাসায় আসার পর আলাউদ্দিনের বড় স্ত্রী তাদের বকা দেন। মিতু এর প্রতিবাদ করেন। এর জের ধরেই দুই শিশুর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরই আলাউদ্দিন পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
বাড়ির মালিক আব্দুল মালেক জানান, ঘটনার সময় আমি বাইরে ছিলাম, খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে দগ্ধ অবস্থায় দুই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। দগ্ধ শিশু বাপ্পি আমাকে জানিয়েছে, তার দুলাভাই আলাউদ্দিন দুই ভাই-বোনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা চিৎকার করে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
তিনি বলেন, দগ্ধ মিতু ও বাপ্পি তাদের বোন মৌয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিল। তার বাবা-মা গ্রামের বাড়ি থাকেন। কী কারণে তাদের দুলাভাই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানত পারিনি।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহিনুজ্জামান বলেন, আমরা শুনেছি শিশুদের দুলাভাই তাদের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। অভিযুক্তকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।