বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাজনীতিতে এসেছেন বলে উল্লেখ করেছেন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটা দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজে ক্ষমতায় যাব কিনা এটা আল্লাহর ইচ্ছা। কিন্তু আপনাদের ক্ষমতাচ্যুত করাটা আমাদের সব বিরোধী দলের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কারণ আপনারা দেশের অনেক ক্ষতি করছেন।’
গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় হানিফের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় হানিফ বলেছেন, ‘হবিগঞ্জের কৃতী সন্তান শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। আর আজ ক্ষমতার লোভে তার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া বাবার হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজন নিহত হন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন কিবরিয়া। ওই হত্যার বিষয়ে রেজা কিবরিয়া কখনো প্রকাশ্যে কিছু না বলেননি।
রেজা কিবরিয়া বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক। এর আগে তিনি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নতুন দলে আহ্বায়কের দায়িত্বে এসেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে অভিযোগ দেয়ার কথা বলেন তিনি।
হানিফের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে মাহবুব-উল আলম হানিফের বক্তব্যকে অনেক রহস্যজনক বলে উল্লেখ করেন রেজা।
তিনি বলেন, ‘উনি বলেছেন, আমি রাজনীতি করি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। এটা আসলে আমার মূল উদ্দেশ্যে না। মূল উদ্দেশ্য হলো আপনাদের দলের মতো চোর, খুনি, বাটপার…। আপনাদের ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আমি রাজনীতিতে আছি।’
ক্ষমতার লোভে বাবার হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে- হানিফের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমার বাবার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে হানিফ সাহেব এতো তথ্য জানেন, আমার আগে থেকে এটা জানা ছিল না। কেইস অবশ্য ১৪ বছর ধরে চলছে। কিন্তু উনার কাছে নিশ্চয়ই তথ্য আছে, মনে হয় এটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। উনাকে রিমান্ডে নিলে আশা করি এই খবরটা পাওয়া যাবে। আমি আশা করি ভবিষ্যতে যে সরকার হবে তারা উনাকে বিদেশে পালানোর কোনো সুযোগ দেবে না। আমার বাবার কেসে উনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা আমি এখন খুব জরুরি মনে করি।’