ইউক্রেনে রুশ বিশেষ অভিযানের ২২তম দিন চলছে। অভিযানে কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর খেরসনের দখল নিয়েছে রুশ বাহিনী। রাজধানী কিয়েভের চারপাশ থেকে ব্যাপক হামলা চালানো হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইতিমধ্যেই ন্যাটোতে প্রবেশের আকাক্সক্ষা ত্যাগ করেছেন। তিনি অনেকটাই নাজুক হয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে বারবার তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানাচ্ছেন। পুতিন সেই আহ্বানে সাড়া দেননি। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে চারবারের বেশি বৈঠক হয়েছে ইতিমধ্যেই।
গতকাল বুধবারও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা আরও বাস্তবসম্মত হতে শুরু করেছে। ইউক্রেনের আলোচক মাইখাইলো পোডোলিয়াক বলেছেন, আলোচনায় মৌলিক দ্বন্দ্বের বিষয় থাকলেও আপস করার সুযোগ অবশ্যই আছে। জেলেনস্কি ও পোডোলিয়াকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে একধরনের আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই গতকাল কিয়েভে পোল্যান্ড, সেøাভেনিয়া ও চেক রিপাবলিকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জেলেনস্কির। বৈঠকে ওই তিন প্রধানমন্ত্রী জেলেনস্কিকে আশ^াস দিয়ে বলেছেন, তারা ইউক্রেনের পাশে রয়েছেন। চেক প্রধানমন্ত্রী পেত্র ফিয়ালা বলেন, আপনি আপনার জীবন, আপনার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন। কিন্তু আমরা জানি যে আপনি আমাদের জীবন এবং আমাদের স্বাধীনতার জন্যও লড়াই করছেন। ওই বৈঠকের পরেই জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত জায়গায় এসেছে। তবে আলোচনা সফল হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেতে গেলে ইউক্রেনের সব নাগরিককে কাজ করতে হবে। যে আলোচনাকারী দল রাশিয়ার সঙ্গে এখন কথা বলছে, তাদেরও কাজ করে যেতে হবে।’ এই আলোচনা বুধবারও চলবে বলে জানান ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী। তবে এটিকে এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করার বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে হবে, তারা ন্যাটোতে যোগ দেবে না। এ ছাড়া দেশটিকে দনেস্ক, লুহানস্ক ও ক্রিমিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি আর ন্যাটোতে যোগ দিতে ইচ্ছুক নন।
এ পর্যন্ত কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে আলোচনা একেবারেই ফলপ্রসূ হয়নি, তা বলা যাবে না। কারণ বেলারুশ সীমান্তে উভয় পক্ষ প্রথমবারের মতো যখন বৈঠকে বসে, এরপরই মূলত অস্ত্রবিরতির মতো সিদ্ধান্ত আসে। ইরাক-আফগানিস্তান-সিরিয়া-লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী যখন আগ্রসন চালায়, তখন কিন্তু মানবিক করিডর ও অস্ত্রবিরতির মতো ঘটনা খুব বিরল ছিল। সেই তুলনায় যুদ্ধে ২২তম দিনের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচবার অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া এবং পাঁচটি শহরে মানবিক করিডর খুলেছে মস্কো প্রশাসন।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়। এই ভাঙনকে রাশিয়ার জন্য একটি ভূরাজনৈতিক বিপর্যয় বলে মনে করেন পুতিন। তারপর থেকে রাশিয়া দেখছে, সামরিক জোট ন্যাটো ধীরে ধীরে তাদের ঘিরে ফেলছে। সংগত কারণেই রাশিয়া তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ১৯৯৯ সালে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দেয়।