খালের মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি

সাভারে প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি খালের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি মহল। গত কয়েক দিনে কয়েকটি এক্সেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে উপজেলার সাদাপুর খালের ভেতরে ৩০ থেকে ৪০ ফুটের গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হয়েছে। এতে করে সরু খালটির পাড়ে থাকা ব্যক্তিমালিকানার কৃষিজমি পড়েছে হুমকিতে। মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছেন না। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল মেলেনি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই খালের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন ফরহাদ হোসেন ও ইদ্রিস মোল্লা নামে দুই মাটি ও ভাটা ব্যবসায়ী। মাটি বিক্রির টাকার ভাগও সময়মতো পৌঁছে দিচ্ছেন সেইসব কর্মকর্তার হাতে। এ কারণেই বারবার অভিযোগ দিলেও ‘মাটিখেকোদের’ বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

সরেজমিনে সাভার উপজেলা পরিষদ থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সাদাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খালটি অন্যান্য স্থানে সরু এবং ভরাট হয়ে গেলেও ওই স্থানে অনেক চওড়া এবং প্রায় ৩০-৪০ ফুট গভীর করে মাটি কাটছেন ফরহাদ হোসেন ও ইদ্রিস মোল্লার লোকজন। এসব মাটি ট্রাকে করে নিয়ে ফেলা হচ্ছে পাশের কয়েকটি ইটভাটায়। এভাবে খালের মাটি কাটার ফলে খালের পাড়ের কৃষিজমি পড়েছে ভাঙনের হুমকিতে। কৃষকদের ভাষ্য, বৃষ্টি হলে বা বর্ষাকালে জমির অনেক অংশই খালে চলে যাবে।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জমির মালিক বলেন, ফরহাদ ও ইদ্রিস মোল্লা গেন্ডা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের নিজেদেরও রয়েছে ইটের ভাটা। এজন্য তারা প্রতি বছরই এই খালের মাটি কেটে নিজেদের ভাটায় ব্যবহার করে। পাশাপাশি অন্যদের কাছে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক বেশি গভীর করে খালের মাটি কেটে নেওয়ায় যেকোনো সময় আমাদের কৃষিজমি ভেঙে খালের ভিতরে চলে যেতে পারে।

ওই কৃষক বলেন, বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও মাটিখেকো ফরহাদ ও ইদ্রিস মোল্লার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারদলীয় লোকজনের ছত্রছায়ায় থেকে প্রসাশনকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যাচ্ছে তারা।

তবে অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো খালের মাটি কাটি না। নিজের ইটভাটার জন্য জমি কিনে সেখান থেকে মাটি সংগ্রহ করি। এবার যেখান থেকে মাটি কাটছি তার পাশেই একটি খাল আছে শুনেছি। আপনি দুই-এক দিন পরে এসে আমার সাথে দেখা কইরেন।’

তবে সরকারি খালের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে জানতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম এবং সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুর রহমানের সঙ্গে নানা মাধ্যমে যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

তবে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী নূরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই কর্মকর্তা জানান, এই খালটি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামলা ছিল। আদালত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন খালটি সরকারি। এখানে দখল বা মাটি কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাদের কোনো সমস্যা নেই।