দ্য কাশ্মীর ফাইলস: এই ছবির পেছনে রাজনৈতিক কারণ নেই তো?

বক্স অফিসের পাশাপাশি বলিউড ছবি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আসাম সরকার থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্য সরকার পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ছবির অভিনেতা অনুপম খেরও বলছেন, তারা সত্য প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকেই এর মধ্যে সূক্ষ্ম রাজনীতি বা ধর্মীয় ভেদনীতির ছায়াও দেখতে পাচ্ছেন।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, সিনেমাটির সাফল্যে কলকাতার পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় অভিনন্দন জানিয়েছেন বিবেক অগ্নিহোত্রীকে। সঙ্গে টেনে নিয়ে আসলেন সাম্প্রতিক আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডও। তিনি বলেন, ‘চাইব, বিবেক এই ধরনের আরও ছবি বানান। আগামী বিষয় হোক উন্নাও বা হাথরস কাণ্ড।’

সঙ্গে প্রশ্নও তুলেছেন, ভারতজুড়ে চলতে থাকা সামাজিক বিদ্বেষের আবহে এই ছবি তৈরির পেছনে আদতে রাজনৈতিক কারণ লুকিয়ে নেই তো?

‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘চাঁদের পাহাড়’-এর পরিচালক কমলেশ্বরের মতে, কাশ্মীরে ১৯৯০ সালে হিন্দু পণ্ডিতদের উচ্ছেদ করতে হয়েছিল। এই নির্দেশ জেকেএলএফ-এর সঙ্গে লড়াইয়ের ফলাফল। যার নির্দেশে এই কর্মকাণ্ড ঘটেছিল সেই তৎকালীন রাজ্যপাল আরএসএস ছিলেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংকে সমর্থন করত বিজেপি। পরিচালকের কৌতূহল, সেই সময় বিশ্বনাথ সরকার বিষয়টি নিয়ে আদৌ কি কোনো পদক্ষেপ করেছিলেন? তার এও দাবি, যে কোনো মানুষ যখন ভিটেমাটি ছাড়া হয় তার থেকে যন্ত্রণার, লজ্জার, অপমানের আর কিচ্ছু নেই। এর প্রতিবাদও কাম্য। একই সঙ্গে তার প্রশ্ন, সেই অতীত টেনে এনে, ইতিহাস বিকৃত করে, দেশজুড়ে চলতে থাকা সামাজিক বিদ্বেষের আবহে এই ছবি তৈরির পেছনে আদতে রাজনৈতিক কারণ লুকিয়ে নেই তো?

কমলেশ্বরের বক্তব্য, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উন্মাদনা। প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন। প্রশাসনকে এই ছবি দেখতে যাওয়ার ছাড় দেওয়া। কর ছাড় দেওয়া। এবং ছবি দেখতে যাওয়ার কারণে ছুটি ঘোষণা! এর মধ্যে শুধুই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নেই। তলিয়ে ভাবলে চোখে পড়বে সূক্ষ্ম অর্থনৈতিক দিকও। এই ছবিটির ক্ষেত্রে কর ছাড় দেওয়া যার অন্যতম কারণ। অন্যান্য দ্রব্যের মতোই ছবিও বিক্রি করতে হয় তো! তাতে এই উন্মাদনা কাজে লাগে।

এর পরেই তিনি উদাহরণ টেনেছেন জার্মানি পরিচালক লেনি রিফেনস্টালের। কমলেশ্বরের মতে, ‘এই পরিচালক নাৎসি বাহিনীর প্রচারধর্মী ছবি বানাতেন। ইতিহাস কিন্তু এই ধরনের পরিচালকদের মনে রাখে না। বিবেক, তার এই ছবি ভবিষ্যতে সেই দলে পড়ে যাবেন না তো? কারণ, তিনিও যেন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মহলকে খুশি করতেই ছবিটি বানিয়েছেন।’

আরও একটি বিষয় কমলেশ্বর কিছুতেই বুঝতে পারেননি, ‘যারা হিন্দু কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উচ্ছেদ নিয়ে এত কথা বলছেন তারা এনআরসিসিএ বিল আনছেন কী করে? বা এই বিল যারা আনেন তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে এত কথা বলছেন কেন!’

একই সঙ্গে তার কটাক্ষ, শুধুই নেতা-মন্ত্রীরা নন, বলিউডের প্রথম সারির তারকারাও প্রচারের দলে শামিল। কারণ, তাদেরও টিকে থাকতে হবে। তবে পরিচালক প্রশংসা করেছেন অনুপম খের, মিঠুন চক্রবর্তীর অভিনয়ের। তার মতে, এই দুই অভিনেতার অভিনয় আলাদা করে উল্লেখের দাবি রাখে।