দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সারা দেশেই মানুষের নাভিশ্বাস। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য দেওয়া শুরু করেছে সরকার।
রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি শুরু হয়। তবে, রাজধানীতে সরেজমিনে টিসিবির পণ্য না পেয়ে অর্ধেক মানুষকে খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে।
উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাভোগীদের কার্ড দেওয়া হলেও ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ১২ লাখ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৯০ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। এসব উপকারভোগীরা আগের মতোই টিসিবির খোলা ট্রাকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পণ্য সংগ্রহ করছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, সাশ্রয়ী মূলে পণ্য পেতে, টিসিবি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এসব পণ্য ক্রয় করছে সাধারণ মানুষ। রবিবার রাজধানীর নজীমুদ্দিন রোডে জেলখানার মোড়ে সকাল ১১টায় টিসিবির ট্রাক এসে হাজির হয়। এ সময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে শুরু হয় হট্টগোল। শেষ পর্যন্ত অনেকে পণ্য না পেয়ে ফেরত যেতে হয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতাদের অভিযোগ অনেকেই দুবার পণ্য সংগ্রহ করছে। আবার নির্দিষ্ট সময়ে ট্রাক না আসায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ১টায় পণ্য পেন খাজে দেওয়ান লেনের বাসিন্দা আলেয়া বেগম। তিনি জানান, জীবনে প্রথমবার লাইনে দাঁড়িয়েছি। জীবনে এমন পরিস্থিতি আসবে কখন ভাবিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে পণ্য পেয়েছি।
এদিকে টিসিবি থেকে পণ্য পেয়ে পাশেই একটি মুদি দোকানে বিক্রি করতে দেখা গেছে এক নারীকে। রাবেয়া নামে ওই নারী জানান, টিসিবি থেকে যে পেঁয়াজ দেয়া হয় তা বেশি দিন ঘরে রাখা যায় না। আগের বার যখন টিসিবি এসব পণ্য নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ডাল, চিনি এখন রয়ে গেছে। তাই এবারে চিনি, ডাল-পেঁয়াজ দোকানে বিক্রি করে দিয়েছি।
রাবেয়া বলেন, স্বামী রিকশা চালায়। ঘরে দুটো মেয়ে। কোনো রকম এক রুমের বাসা নিয়ে ভাড়া থাকি। স্বামীর আয়ে সংসার চালানো অসম্ভব। তার মধ্যে বাড়তি জিনিস নিয়ে রেখে দিলে তো লাভ হবে না। বিক্রি করে যা টাকা পেয়েছি তা নিয়ে অন্য জিনিসপত্র নিয়ে বাসায় যাব।
পণ্য না পেয়ে ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন, সোয়ারি ঘাটের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য পাইনি। অনেকেই এসে দুবার পণ্য নিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স মেহেদী এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. শাওন বলেন, পণ্যর বিপরীতে দু থেকে তিনগুণ মানুষ লাইনে দাঁড়ায়। যারা আগে লাইনে আসে আমরা তাদের পণ্য দিই। শেষ পর্যন্ত সবাইকে পণ্য দেওয়া সম্ভব হয় না।
সরকার দুই ধাপে এক কোটি পরিবারের কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে রবিবার থেকে। চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এরপর আগামী ৩ এপ্রিল শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপের বিক্রি কার্যক্রম।
প্রথম ধাপে এক কোটি পরিবারের কাছে ১১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হবে দুই লিটার করে সয়াবিন তেল। এ ছাড়া ৫৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি করে চিনি, ৩০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি করে পেঁয়াজ এবং ৬৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি করে মসুর ডাল। দ্বিতীয় ধাপে এসব পণ্যের সঙ্গে যুক্ত হবে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে দুই কেজি করে ছোলা।