দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ও তার ভাইয়ের ‘মদদে’ আদিবাসীদের পুকুর দখলের অভিযোগ উঠেছে।
তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় তাদের ভারতে চলে যেতে বলেছেন মন্ত্রীর ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান বাবুল। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তারা। উল্টো তাদের নামে হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে।
রবিবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অর্ধশত আদিবাসী নাগরিক সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের পুখুরীহাট আদিবাসী পাড়ার সন্তোষ রায়ের ছেলে বিকাশ রায়।
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় ওই আদিবাসী পাড়া বাসিন্দা বাবু লাল টুডু, সদানন্দ রায়, রাম টুডুসহ অর্ধশত নারী-শিশু ও পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পুখুরী মৌজার ১৬০ জেএল’র অধীনে ১/১ খতিয়ানভুক্ত ১৬৫৩ নম্বর দাগের ২ দশমিক ৪০ একর পুকুর তারা শত বছরের অধিক সময় ধরে জমিদারের নিকট থেকে প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করে আসছেন। পরে রেকর্ডের মালিক ও জমিদারের উত্তরাধিকারের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিলে তারা মালিকানা প্রাপ্ত হন।
বক্তব্যে বলা হয়, ‘বর্তমান এসিল্যান্ড কানিজ আফরোজ মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে ওই এলাকার আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তিকে ওই পুকুর লিজ দিয়েছেন। এতে বাধা দেয়ায় থানার ওসির সঙ্গে বসার আহ্বান জানান তিনি। পরে থানায় বসতে গেলে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।’
তাদের অভিযোগ, এসব কাজে লিজ গ্রহীতা আব্দুস সামাদকে সহযোগিতা করছেন দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি, তার ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান বাবুল ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান কামরু।
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ওসি মন্ত্রীর ছোট ভাই বাবলুর কথা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া পুকুরে মাছ ধরতে আব্দুস সামাদকে বাধা দিলে গণহারে ধরে নিয়ে কোটে চালান দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
এ ঘটনার পরে তারা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে থানার এসআই আরিফ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন ‘তোমরা পুলিশকে বিরক্ত কর কেন? এই পুকুরের মালিক সরকার এবং লিজি আব্দুস সামাদ, তোমাদের কি আছে? এরপর তোমাদের হত্যা করলেও পুলিশ আসবে না।’
ফুলবাড়ী এলাকার সংখ্যালঘু হিন্দু ও আদিবাসীরা একই রকম পরিস্থিতিতে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। খয়েরবাড়ী এলাকার আদিবাসী গাছুয়া মার্ডির পুকুর দখল, ফরিদাবাদ এলাকার রাম টুডুদের রেকর্ডের জমি অর্পিত তালিকায় নিয়ে জবর-দখলসহ পুলিশি হয়রানি চলছে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীমা আক্তার জানান, অর্পিত সম্পত্তি আইনের ২৩ থেকে ২৬ বিধিমালা অনুযায়ী যেকোনো সরকারি সম্পত্তির ওপর মামলা চললে তা লিজ প্রদান করার ক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে পুকুরটি লিজ প্রদান করা হচ্ছে। গত বছরও পুকুরটি লিজ দেয়া হয়েছে। যারা পুকুরের সম্পত্তি নিয়ে মামলা করেছে, তারা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ‘ক’ তালিকা ভুক্ত সম্পত্তি হিসেবে পুকুরটি আমরা লিজ দিতে পারব।
মন্তব্য জানতে সাবেক মন্ত্রীর ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান বাবুল ও ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. আশ্রাফুলকে ফোন দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, লিজের ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে আমাদের লিজ দিতে হবে। তবে, কোন পুকুর লিজের ব্যাপারে বলা হচ্ছে তা রেজিস্ট্রার না দেখে এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এমপি বলেন, লিজ নেয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। পুকুর লিজের জন্য কেউ আসেনি। কারো পক্ষ নেয়ার প্রশ্ন আসে না।
লিজ দেয়ার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউএন ও এসিল্যান্ড সঠিকটা বলতে পারবেন।