ডুবে যাওয়া লঞ্চটি দূষিত শীতলক্ষ্যার ২৫ মিটার গভীরে

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে শনাক্ত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিরা। লঞ্চটি পানির ২৫ মিটার (প্রায় ৫৫ হাত) গভীরে ডুবে আছে। দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।  

কটু গন্ধ ও দূষণে কালো রং ধারণ করা শীতলক্ষ্যার পানিতে উদ্ধার অভিযান চালানো বেশ কষ্টসাধ্য বলেও জানিয়েছে তারা।

রবিবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান শীতলক্ষ্যা পাড়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএর একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি বার্জের সহায়তায় লঞ্চটিকে ওঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাতের মধ্যেই উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে আসবে।’

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শাহজাহান সিকদার রাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে একটি টিম দুর্ঘটনাস্থলে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ডুবন্ত জাহাজ পানির ওপরে তোলা হলে তার ভেতরে তল্লাশি চালানো হবে। পানির নিচে উদ্ধার অভিযান আগামীকাল (সোমবার) পুনরায় শুরু হবে।

রবিবার দুপুর ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদরের সৈয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন মালবাহী জাহাজ রূপসী-৯ পেছন থেকে চাপা দিলে ডুবে যায় যাত্রীবাহী লঞ্চ এম এল আশরাফ উদ্দিন-২। লঞ্চটির নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জে যাচ্ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি দলের পাঁচজন ডুবুরি এখানে কাজ করছেন। তারা পানির নিচ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছেন। আর একজন লঞ্চ যাত্রী সাঁতার কেটে ফিরে আসার পর মারা যান।

কতজন নিখোঁজ রয়েছে জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর বলেন, ‘লঞ্চের যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন তীরে উঠতে পেরেছেন। ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনো ১৫ থেকে ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্বজন নিখোঁজ থাকার বিষয়ে অভিযোগ জানাননি।’

নারায়ণগঞ্জের এই এলাকায় নদীর পানি দূষণে কালো রং ধারণ করেছে। পাড়ে দাঁড়ালে কটু গন্ধ পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসের একজন ডুবুরি জানান, ‘এ রকম দূষিত পানিতে উদ্ধার অভিযান চালানো বেশ কষ্টসাধ্য।’

এ ঘটনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আ ন ম বজলুর রশীদকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন- ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান ও বিআইডব্লিউটিএ এর পরিচালক (নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক)।

আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া লঞ্চডুবির ঘটনায় জরুরি যোগাযোগের জন্য বিআইডব্লিউটিএ একটি ‘হটলাইন’ খুলেছে; যার নম্বর-১৬১১৩।