এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার দাবিতে জাতয়ি প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেছে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকার মনিজা রহমান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ২০২১-২০২২ সেশনের এসব শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ লুৎফুন্নাহারের পদত্যাগও দাবি করেন।
রবিবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায় ছয় শতাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে তারা এই বিক্ষোভ করে। বিকালের দিকে ঘটনাস্থলে কলেজটির অধ্যাক্ষ লুৎফুন্নাহার প্রেসক্লাবের সামনে আসলে শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায় তাদের ওপর পুলিশ মারধর করে বলে অভিযোগে জানান শিক্ষার্থীরা।
এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
সিনথিয়া আক্তার মাহী নামে এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারাদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবিগুলোর জন্য আন্দোলন করেছিলাম। বিকালের দিকে হঠাৎ কিছু নারী পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এর মধ্যে নুসরাত আনসারি নামের এক শিক্ষার্থীকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। আমরা এ স্কুলের শিক্ষার্থী। ক্লাস নাইনে আমাদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা নিলেও রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। ফলে আমরা এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারব কিনা জানি না। আমাদের দশ বছরের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে। এখন কী হবে না হবে আমরা জানি না।
আতিয়া সুলতানা নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা-পয়সা সব নিলেও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ লুৎফুন্নাহার সেগুলো আত্মসাৎ করে এখন গাঢাকা দিয়েছেন। রেজিস্ট্রেশন না করায় এসব শিক্ষার্থীর এসএসসির ফরম পূরণও করা হয়নি। আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও হতাশায় ভুগছি।’
তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক লুৎফুন্নাহার একইসঙ্গে দুটি কলেজের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর একটি হচ্ছে মনিজা রহমান গার্লস স্কুল ও কলেজ, অপরটি টাঙ্গাইলের ব্রাহ্মণশাসন মহিলা কলেজ। ২০২০ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর অন্তত দেড় বছর তিনি উভয় পদে দায়িত্ব চালিয়ে যান। বিষয়টি জানার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু ওই কমিটি কাজ শেষ করেনি।
শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার পেট্রোল ইনস্পেক্টর শেখ আবুল বাশার দেশ রূপান্তরের বলেন, শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ্যের দিকে তেড়ে আসতে চেয়েছিল। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে কেউ আহত হতে পারে। কিন্তু কাউকে মারা হয়নি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাদের স্কুলে নিয়োগ প্রাপ্ত কোন বৈধ্য অধ্যক্ষ না থাকায় স্কুলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাঠানো হয়নি। তা ছাড়া, বোর্ডে সবার রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে। যে কেউ চাইলে বোর্ড থেকে নিয়ে যেতে পারবে। এ ছাড়া কারো রেজিষ্ট্রেশন যদি না করা হয় সেটিও বোর্ড নতুন করে দিতে পারবে। কারো রেজিট্রেশন বাতিল হবে না।
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ লুৎফুন্নাহার দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি মহল আন্দোলন করাচ্ছে।
এ আন্দোলন ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।