কল্যাণপুরে আগুনে পুড়ল বস্তির শতাধিক ঘর

রাজধানী কল্যাণপুরের নতুন বাজার এলাকায় বেলতলা বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে গেছে শতাধিক ঘর। গতকাল রবিবার রাত পৌনে ৯টায় ওই এলাকার ৯ নম্বর বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের প্রায় আড়াই ঘণ্টায় চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে বস্তিটির বেশিভাগ ঘরই পুড়ে ছাই হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ভাষ্য, সরু রাস্তা আর পানির সংকটের জন্য আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে তাদের। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা শাহ জাহান শিকদার জানান, আগুনের খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়। পরে যোগ দেয় আরও সাত ইউনিট। তবে রাস্তায় যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে কিছুটা বিলম্ব হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয়রা জানায়, বস্তিটিতে কয়েকশ ঘর রয়েছে। অন্তত চার হাজার মানুষ এ বস্তিতে বাস করে। গত সাত বছরে অন্তত ১০ বার এ বস্তিতে আগুন লেগেছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে অগ্নিকাণ্ডের স্থানে যেতে পারছিল না। যে পথ দিয়ে এসেছে সে পাশে উঁচু প্রাচীর ছিল, প্রাচীর টপকে বস্তিতে প্রবেশ করলেও ভেতরে যাওয়ার সংকীর্ণ গলিপথ দিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে বস্তির অন্যদিক ঘুরে একটি পানির গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করে। কিন্তু সেখানে পানির লাইন নেই। প্রথম অবস্থাতেই এক গাড়ি পানি শেষ হয়ে যায়। পরে ওয়াসাকে খবর দিলে, ওয়াসার গাড়ি এলে পানি দেওয়া শুরু হয়। এ কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আগুনে কোনো হতাহত নেই, নিখোঁজের অভিযোগও পাওয়া যায়নি। আগুনের কারণ তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বস্তিবাসী দাবি করেছে দুই শতাধিক ঘর পুড়েছে, তবে এটাও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়া আগুনে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসটিও নিয়ে বেরোতে পারেনি অনেকে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক পরিবার। বস্তির বাসিন্দা সাহারা খাতুন বলেন, ‘আমি বুইড়া মানুষ, কষ্ট করে ভাত খাই, কিছুই নাই। একটা ট্রাংক নিয়ে বের হইছি। ভেতরে আর কিছুই নাই। সব পুড়ে গেছে।’ তার পাশেই কান্নায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন রাবেয়া বেগম। একটু পর উঠে খুঁজতে শুরু করেছেন তার ছেলেমেয়েকে। কেঁদে কেঁদে বলছেন, ‘আল্লাহ তুমি এ কি করলা। আমাদের নিঃস্ব করে দিলা। সব পুইড়া গেছে। সব শ্যাষ হয়ে গেছে।’

এদিকে আগুন লাগার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শাহআলম নামে এক ব্যক্তির দোতলা বাসা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তে একটি-দুটি ঘর থেকে শুরু করে সারা বস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ১০০ থেকে ১৫০টি ঘর পুড়েছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

বস্তির আরেক বাসিন্দা মো. লিটন গত ১০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে দুই হাজার টাকা ভাড়ায় বস্তির একটি ঘরে থাকতেন। কাজ করতেন কল্যাণপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানায়। কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন সুখের সংসার। কিন্তু আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে আহাজারি করছেন তিনি। লিটন বলেন, ‘গার্মেন্টস থেকে রাত ৯টায় বস্তিতে আসি। এসে দেখি আগুনে সবকিছু জ¦লছে। আগুনের তাপ এত ছিল যে, নিজের ঘরের কাছেই যেতে পারিনি।’