আধুনিক নিবাস গড়ে তোলার কারণে বনভূমি হুমকির মুখে পড়ছে। বনভূমিতে আধুনিক নিবাস গড়ে কিংবা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে ক্ষতি না করে বনকে টিকিয়ে রাখতে ‘মায়ের মতো’ আগলে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বন ভবনে আন্তর্জাতিক বন দিবসের এক অনুষ্ঠানে বন ও বনভূমিকে ‘ভিন্ন উদ্দেশ্যে’ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন বলেন, ‘চকোরিয়া সুন্দরবনে চিংড়ি চাষ করা হয়, এতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। কিন্তু এতে ম্যানগ্রোভ বন নষ্ট হয়ে যায়। চকোরিয়া সুন্দরবনকে শেষ করে ফেলা হয়েছে। এখন সেটা ম্যানগ্রোভ বন নেই। বনকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলে সে বন ধ্বংস হয়ে যায়। এ কারণেই বন ও বনভূমিকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতেই হবে।’
বনের মধ্যে আধুনিক নিবাস গড়ে তোলা হলে বনভূমি হুমকির মুখে পড়বে উল্লেখ করে বনের বাসিন্দা বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের প্রতি তা রক্ষা করার আহ্বান জানান এই বন সংরক্ষক।
তিনি বলেন, বনের মধ্যে যারা বাস করে, যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাস করে, তাদের আমরা বলছি, এ বনকে তারা মায়ের মত আগলে রাখতে পারলে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে। নইলে বনকে টিকিয়ে রাখা যাবে না।
সাত হাজার একরের বেশি জমি বন অধিদপ্তরের উদ্যোগে দখলমুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আরও আড়াই লাখ একর জমি পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করে সেখানে বৃক্ষ আচ্ছাদন করা হবে, বনাঞ্চলের পরিমাণ বাড়ানো হবে।’
বন সংরক্ষণে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকলের প্রচেষ্টা ছাড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্ভব হবে না। তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না।’
আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই বনকে ভালো রাখতে হবে। বন বিপন্ন হলে আমাদের সমাজ, ঐতিহ্য কিছুই থাকবে না। আমাদের যেটুকু বন আছে, সেটুকু সংরক্ষণের পাশাপাশি বনের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। খালি ও পতিত জায়গায় গাছ লাগাতে হবে।’
এ সময় বন অধিদপ্তরের সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পতিত ও প্রান্তিক, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বনায়নের আওতায় আনার কথা তুলে ধরেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী। বনায়ন কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি, বননির্ভর জনগোষ্ঠী, বনে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
এর পাশাপাশি বন বিভাগে চাহিদা অনুযায়ী লোকবল নিয়োগ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে শূন্যপদ পূরণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অনুষ্ঠানে সামাজিক বনায়নের ১০ জন নারী ও পুরুষ উপকারভোগীর মাঝে ১৫ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক বন দিবসের এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এবং উপপ্রধান বন সংরক্ষক ও সুফল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়।