শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি নেই

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনায় তেমন একটা অগ্রগতি নেই। গতকাল সোমবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। মস্কো অভিযোগ করেছে যে, রাশিয়ার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় এমন সব প্রস্তাব দিয়ে শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করছে ইউক্রেন। কিন্তু কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা আলোচনায় আগ্রহী। তবে তারা রাশিয়ার আল্টিমেটাম মেনে নেবে বা আত্মসমর্পণ না করার বিষয়েও জোর দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করার জন্য আলোচনায় এখন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে হবে। তিনি বলেন, দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠকের পরিবেশ তৈরি করতে গেলে আগে নিজেদের সেভাবে কাজ করতে হবে। আলোচনা হতে হবে এবং এর ফলাফলে একমত হতে হবে। যদিও এখনো সে ধরনের কোনো অগ্রগতি হয়নি। পেসকভ দাবি করেছেন যে, একটি চুক্তিতে পৌঁছতে আলোচনার বিষয়ে ইউক্রেনীয় আলোচকদের চেয়ে বেশি আগ্রহী রাশিয়ার প্রতিনিধিরা।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি কার্যকর শান্তি চুক্তি কার্যকরের লক্ষ্যে একাধিক দেশ মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। শুরুটা করেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কিন্তু যুদ্ধ বেধে যাওয়ার পর ম্যাক্রোঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সুরে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর এখন এ মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক। ইতিমধ্যেই তুরস্কে কিয়েভ ও মস্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একবার বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে মানবিক করিডোর সৃষ্টির বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গত রবিবারও তুরস্ক প্রশাসন জানিয়েছে, কিয়েভ ও মস্কো একটি কার্যকর শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে।

এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে কারফিউ জারি করেছেন শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিতসচকো। সোমবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সেখানে কারফিউ জারি করা হয়। এক ঘোষণায় মেয়র ভিতালি ক্লিতসচকো জানান, রাজধানীতে আজ (২১ মার্চ) রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।