খুলনায় ইউপি সচিবকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক পেটালেন চেয়ারম্যান!

খুলনার কয়রা উপজেলার ৪নং মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে সচিব মো. ইকবাল হোসেনকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যানের লোক সচিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নিজের কক্ষে দরজা বন্ধ করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন বলে অভিযোগ।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কয়রা থানার ওসি ঘটনাস্থলে এসে সমঝোতার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ইউএনওকে সাদা কাগজে লিখিত নিয়ে তাকে বাড়ি পাঠান।

ইউপি সচিব ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাজ শেষ করে বাড়ি আসি। আসার পরে কিবরিয়া ও হাফিজুল নামে দুজন পুনরায় পরিষদে নিয়ে যেতে বাড়ি আসেন। তাদের কথাবার্তায় তখন আমার ভয় হয়। আমি স্থানীয় সরকার খুলনার উপ-পরিচালক স্যারকে ফোন দিয়ে অবহিত করে বাড়ি থেকে বের হই। পরিষদে প্রবেশের সাথে সাথেই মোবাইল নিয়ে নেয়। পরে দরজা দিয়ে প্রচুর পেটায়।’

‘আমি পা ধরেছি, তবুও পিটানো বন্ধ করেননি। একপর্যায়ে ইউএনও স্যার ও ওসি স্যার আসার পরে সব ঘটনা শোনেন। শোনার পরে ইউএনও স্যার আমাকে বলেন, জানাজানি হলে চাকরি চলে যাবে। তা ছাড়া বিভিন্ন সমস্যা হবে। আমি তখন যন্ত্রণায় কাতর ছিলাম।  চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বের হতে চাইলেও আসতে দেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে চলে আসি।’

তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি পঙ্গু লোক এসেছিল ওয়ারেশ কায়েমের জন্য। আমি তখন সচিবের স্বাক্ষরের জন্য পাঠালাম। সে এসে বলল, সচিব নেই। তখন ৫টা ১৫ মিনিট। তখন সচিবকে ফোন দিলাম। সে ধরে না। কয়েকবার ফোন দেওয়ার পরে ধরে বলে আমি বাজারে আছি এখন আসতে পারব না। তখন ইকবালকে বললাম পঙ্গু লোকটি আবার কাল আসবে।’

‘সে আমাকে বলল আমি ১০-৫টা অফিস করব। এরপরে আর কাজ করতে পারব না। তখন আমি ২ জনকে পাঠালাম তাকে ডেকে আনার জন্য। সে আমার রুমে গেল তখন কথাবার্তা হলো। সে ভুল স্বীকার করল। এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল আমি ইকবালকে মেরেছি। তখন ইউএনও, ওসিসহ অনেকে এল। আজ সকালে শুনছি তাকে আমি মেরেছি।’

কয়রা থানার ওসি মো. রবিউল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেখানে একটি ঘটনা ঘটেছে এমন খবর পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে সে বলল যে আমার কিছু হয়নি একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে ইউএনও সাহেবের কাছে লিখিত দিয়ে তারা চলে আসল। আমিও চলে আসলাম।’

কয়রার ইউএনও অনিমেষ বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনা শুনেই আমি ও ওসি সাহেব সেখানে যাই তখন সে (ইকবাল) বলেছে আমার কিছু হয়নি। চেয়ারম্যানের সাথে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা সমাধান করে নিয়েছি। তখন আমি বললাম তাহলে একটি লিখিত দেও। সে লিখিত দিয়ে চলে গেল।’

‘ওসি সাহেব তাকে অনেকবার এই বিষয়ে জানতে চাইল সে তখন কেন বলল না। তা ছাড়া কয়রা হাসপাতাল থাকতে কেন খুলনায় গিয়ে ভর্তি হলো। এ বিষয়গুলোর উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।’

স্থানীয় সরকার খুলনার উপপরিচালক মো. ইকবাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত রাতে (সোমবার) সে আমায় ফোন দিয়েছিল। সে বলেছিল চেয়ারম্যানের লোক তাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তখন ইউএনওকে বিষয়টি জানাই। পরে রাতে ইকবাল ফোন করে বলল কোনো সমস্যা হয়নি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইকবাল ভর্তি হলে আমি গিয়ে দেখি তার বাম হাতে ব্যান্ডেজ। তার এক্স-রে দেখে ও চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম তার হাতের কয়েক জায়গায় চটে গেছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে বেশ মারধর করা হয়েছে। আমি ইকবালের কাছে জানতে চাইলাম কাল রাতে কেন মিথ্যা কথা বললে, উত্তরে সে বলল আমাকে খুব ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। আমি ইউএনওকে পাঠালাম বিষয়টি দেখার জন্য ইকবালকে সাহায্য করার জন্য কিন্তু তিনি কি করলেন বুঝতে পারলাম না। এখন আমি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ নেব।