২০১৬ সালে সিএনজি চালিত স্কুটারের চাপায় গুরুতর আহত হন মো. বশির। এরপর চিকিৎসাজনিত কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। এ ছাড়া ঋণের বোঝাও বইতে পারছেন না। অসুস্থতার কারণে বন্ধ হয়ে আছে আয়-রোজগার।
এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর চিকিৎসা ও ঋণ পরিশোধের জন্য লাখ টাকায় নিজের ২ সন্তানের মধ্যে ১৩ মাসের ছোট মেয়েকে দত্তক দিয়েছেন মা।
ঘটনাটি হাজীগঞ্জের পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধেররা-বিলওয়াই গ্রামের ইউনুস মজুমদার বাড়ির। যুবায়েরা আক্তার নামের ওই শিশুটিকে দত্তক দিয়েছেন বশির-আসমা দম্পতি।
গতকাল সোমবার দুপুরে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে রাজধানীর একটি পরিবারের কাছে সন্তান দত্তক দেন তারা। দত্তক নেয়া পরিবারটি তাদের ১ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে জানান শিশুটির পরিবার।
শিশুটির বাবা জানান, আমার সাড়ে তিন বছর ও তের মাস বয়সী দুইটি কন্যা শিশু রয়েছে তাদের। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা, ঋণ পরিশোধ ও বাচ্চাদের খাবার কিনতে পারছিলে না তারা। এদিকে অসুস্থতার কারণে কাজও করতে পারছেন না। পৈতৃক সম্পত্তিও জটিলটার কারণে বিক্রি করা যাচ্ছিল না। তাই নিরুপায় হয়ে ছোট মেয়েকে দত্তক দিয়েছেন।
শিশুটির মা বলেন, ‘নাড়ি ছেঁড়া ধন মেয়ের জন্য বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কি করবো, স্বামীর চিকিৎসা দরকার, দেনা পরিশোধ দরকার। স্বামী সুস্থ হলে কাজ কর্মে যেতে পারবে, এমন বিষয়গুলো ভেবে মেয়েকে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার (ওসি) ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তার জানান, পৌরসভার প্যানেল মেয়রকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। এ ছাড়া ওসি সাহবের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।