যৌতুক চেয়ে নির্যাতনের অভিযোগে অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা হোসেন সুবহার করা মামলায় তার স্বামী গায়ক ইলিয়াস হোসাইনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জুলফিকার হায়াত জামিন শুনানির আবেদন খারিজ করে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিন ইলিয়াসের আত্মসমর্পণ এবং তার জামিনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।
এ আদালতের পেশকার ইশতিয়ার আলম সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
আদালতে ইলিয়াস অসুস্থ রয়েছেন জানিয়ে জামিন শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী।
এর বিরোধিতা করে শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘আদালতে না এলেও আসামি এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রার্থনা করছি।’
গত ৩ জানুয়ারি সুবাহ বনানী থানায় মামলা করার পর হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নেন ইলিয়াস। সেই জামিনের মেয়াদ শেষে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল তার।
কিন্তু গত ২২ ফেব্রুয়ারি তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে বিচারক ইলিয়াসের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২ মার্চ দিন রাখেন।
এর পর ২ মার্চ বিচারক জুলফিকার হায়াত ‘শেষবারের মত’ সময় মঞ্জুর করে ইলিয়াসের আত্মসমর্পণ এবং তার জামিনের বিষয়ে শুনানির জন ২২ মার্চ দিন ঠিক করে দেন। এদিনও ইলিয়াস হাজির হননি।
সুবহার করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর বিয়ের সময় তার পরিবারের পক্ষ থেকে ইলিয়াসকে ১২ লাখ টাকার রোলেক্স ঘড়িসহ ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পণ্য দেওয়া হয়। কিন্তু সুবহার কাছে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৫০ লাখ এবং গাড়ির জন্য আরও ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তার স্বামী।
এরপর গত ৯ ডিসেম্বর ‘ইউটিউব চ্যানেল কেনার জন্য’ সুবহার মায়ের কাছে আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে তাকে আড়াই লাখ টাকা দেয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার জন্য ৮০ লাখ টাকার দাবিতে ইলিয়াস চাপ দিলে ২৭ ডিসেম্বর ঝগড়া হলে সেই রাতে সুবহাকে ‘শারীরিক নির্যাতন’ করা হয়।
পরদিন আবারও টাকা দাবি করেন এবং তাতে অস্বীকৃতি জানালে সুবহাকে ‘কিল-ঘুষি-লাথি মেরে এবং চুলের মুঠি ধরে মাথা দেয়ালে ঠুকে জখম’ করেন, পরে ব্যথার ওষুধ বলে সুবহাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।