১৭ বারের মতো ভেঙে গেল শ্রীপুরের বেইলি ব্রিজটি

একটু লোড পড়লেই ভেঙে (ডেবে) পড়ে বেইলি ব্রিজটি। এ সড়কে দিন রাতই চলে নানা ধরনের যানবাহন। আশপাশের অন্তত বিশটি গ্রামের মানুষের চলাচলের সহজ পথ এটি। এ অঞ্চলে বেশ কয়েক বছরে পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পের উন্নয়ন ঘটেছে। এতে করে আরও চাপ বেড়েছে সড়কের উপর। তবে চাপ বাড়লেও বহুদিন ধরে অচল বেইলি ব্রিজটি মেরামতে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বছরে অন্তত তিন-চার বার ভেঙে পড়ে।

পরে যেনতেন মেরামতে সাময়িক চলার উপযোগী করা হয়। বুধবার মাটিকাটা নদীর ওপর তৈরি সেই বেইলি ব্রিজটি ফের ভাঙল। এ নিয়ে ব্রিজটি অন্তত ১৭ বার ভেঙে দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী ও পথচারীরা।

গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ জৈনা বাজার আঞ্চলিক সড়কের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সেই বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়লেও এখনো স্থায়ী কোনো ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে না সহসাই ।

বহুবার সেতু ভেঙে দুর্ভোগে পড়া এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিচ্ছেন দ্রুতই স্থায়ী ব্রিজের কাজ শুরু হবে। জমি অধিগ্রহণ করার পর পরই ব্রিজের কাজে হাত দেবেন বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল আহসান। 

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এবার নিয়ে ১৭ বার ভেঙে পড়লো ব্রিজটি। ভাঙলেই চলে তড়িঘড়ি মেরামত। সে মেরামতও হয় যেনতেন। যার ফলে বছরে অন্তত চার পাঁচবার ভেঙে পড়ে। আর এতে দুর্ভোগে পড়ে এ সড়কে পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সহজে উঠতে এ সড়ক ব্যবহার করে সবাই।

পোলট্রি মেডিসিন ও খাদ্য বিক্রেতা মো. আসাদ ঢালী বলেন, কাওরাইদ, বেলদিয়া, বয়রা, কাশিজুলি, বাপতা ত্রিমোহনী ও গয়েশপুর উপজেলার পাইথল, দেওলপাড়া, শহীদনগড়, মাখলসহ অন্তত ২৫-৩০ গ্রামের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করে সহজে মহাসড়কে উঠতে। এ সড়ক ব্যবহার না করলে অন্তত ২৫ কিলোমিটার পথ অতিরিক্ত ব্যবহার করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামে কয়েক লক্ষ লেয়ার (ডিমের) ও ব্রয়লার (মাংসের) মুরগির খামার গড়ে উঠেছে। এ সব এলাকায় ডেইরি খামারও গড়ে উঠেছে । সেসব খামারকে কেন্দ্র করে ফিড ও ওষুধের ব্যবসা করছে। আর এ সড়কেই সব যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। খাদ্য ও ওষুধের গাড়ি চলাচলের এ অঞ্চলে একমাত্র  সড়ক এটি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় সময় ব্রিজ ভেঙে চলাচল বিঘ্ন ঘটে। এমন পরিস্থিতিতেও কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় মানবাধিকার ও সমাজ কর্মী সাঈদ চৌধুরী বলেন,  মাটিকাটা নদীর ওপর তৈরি করা ব্রিজটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক পুরাতনও এটি। তবুও নিরুপায় মানুষজন এ পথেই চলেন।  এ ব্রিজটি স্থায়ী মেরামতের দাবি দীর্ঘদিনের।

শ্রীপুর উপজেলা প্রধান প্রকৌশলী (এলজিইডি) রকিবুল আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে আমাদের লোকজন মেরামতের কাজ শুরু করেছে। আপাতত যানবাহন চলাচলের জন্য অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে স্বাভাবিক করা হচ্ছে।

‘ ব্রিজের স্থায়ী কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। এর পরেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।’ বলেন তিনি।