রাজধানীতে তিন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা জানায়, প্রেমিঘটিত কারণে তারা আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির শুক্রাবাদ এলাকা একটি চারতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে বেসরকারি ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আকাশ রায় (২৪) মারা যান। নিহতের বন্ধুদের ধারণা, প্রেমের কারণে আকাশ বাসার চতুর্থ তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে। আকাশের বাবার নাম রতন রায়। গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চরতা এলাকায়। শুক্রাবাদে মেস ভাড়া নিয়ে থাকতেন। দুই মাস আগে আকাশ কম্পিউটার সায়েন্স থেকে অনার্স সম্পন্ন করেন।
আকাশের বন্ধু পঙ্কজ অধিকারী জানান, আকাশ তিনদিন আগে তার বাসায় ওঠেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় আকাশকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এ সময় তার ব্যবহৃত ফোনটি বাসার ছাদে পাওয়া যায়। আর তার মুখ দিয়ে হারপিকের গন্ধ বের হচ্ছিল।
তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে আকাশ ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। লাফ দেওয়ার আগে হয়তো তিনি হারপিক পান করেছেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, বিকেলে ঢামেক মর্গে তার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে উত্তর বাড্ডার পূর্বাঞ্চল এলাকায় প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৫) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। সে উত্তর বাড্ডা কামিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঢামেক হাসপাতালে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, বুধবার বিকেলে ঢামেক মর্গে তার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত জান্নাতুলের বাবা জহুর আলী ভূঁইয়া জানান, গত পাঁচ মাস ধরে ওই মাদ্রাসার ছাত্র ঈশানের সঙ্গে তার মেয়ে জান্নাতুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার রাতে ঈশানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে সবার অগোচরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ এসে জান্নাতুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
তিনি জানান, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার তালকানা এলাকায়।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেন।
অন্যদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ সবুজবাগের কাঠেরপুল এলাকার একটি বাড়ি থেকে কাওসার হোসেন (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মর্গে পাঠানো হয়।
তার বাবার নাম আবুল কাশেম। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়।
সবুজবাগ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মো. সবুজার আলী জানান, পড়াশোনা বন্ধ করে কম্পিউটারের কাজ করত কাওসার। মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে বাসায় এসে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে কাওসার। ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমঘটিত করে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তদন্ত চলছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিল কাওসার।