কর্ণাটক হাইকোর্টের রায়

স্ত্রীর অনিচ্ছায় যৌনতা ধর্ষণের শামিল

বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে যুগান্তকারী রায় দিয়েছে ভারতের কর্ণাটক হাইকোর্ট। গত বুধবার রায়ে আদালত বলেছে, স্ত্রী পুরুষের সম্পত্তি নয়। স্বামী কখনো স্ত্রীর ‘কর্তা’ হতে পারে না। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী তাদের সমানাধিকার এবং স্বামীকে স্ত্রীর স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষা করতেই হবে। স্ত্রীর অনিচ্ছায় যৌনতা ধর্ষণেরই শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এনডিটিভি বলছে, বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বহু মানবাধিকার সংগঠন বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি হাইকোর্টেও এ বিষয়ে মামলা উঠেছিল। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের এ বিষয়ে মতামত জানতে চেয়েছিল আদালত। এমন আলোচনার মধ্যে গত বুধবার কর্ণাটক হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, তাকে যুগান্তকারী বলছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, এ রায় বৈবাহিক ধর্ষণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল।

কর্ণাটক আদালত বলেছে, আইন তৈরি করা আদালতের কাজ নয়। দেশের সংসদ সে কাজ করে। কিন্তু সংবিধান মেনে আদালত বিচার করে। দেশের সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, নারী ও পুরুষের সমানাধিকার। ফলে নারী কখনো সম্ভোগের বস্তু হতে পারে না। বিয়ের পরেও না। নারীর অমতে তার স্বামী যদি তার সঙ্গে যৌন মিলনের চেষ্টা করে, তাহলে তা ধর্ষণেরই শামিল। একজন ধর্ষণকারীর যে শাস্তি, স্বামীকেও সেই একই শাস্তি দেওয়া উচিত।

কিছুদিন আগে কর্ণাটক হাইকোর্টে এক নারী একটি মামলা করেন। তার অভিযোগ, স্বামী অমতে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে যান। এমনকি সন্তানের সামনেও তাকে স্বামীর সঙ্গে যৌন মিলনে বাধ্য করা হয়। সে মামলার রেশ ধরেই এ রায় দিল কর্ণাটক হাইকোর্ট।

আগে দিল্লি হাইকোর্ট এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত জানতে চাইলে কেন্দ্রের আইনজীবী বলেছিলেন, সরকার মনে করে এ ধরনের বিষয় অত্যন্ত পারিবারিক। ভারতীয় সংস্কৃতিতে পরিবারের কিছু ঐতিহ্য আছে। তবে রায়ে কর্ণাটক হাইকোর্ট বলেছে, ঐতিহ্যের কথা ভেবে এমন অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না। দিনের পর দিন নারীরা আক্রান্ত হয়েছেন। তারা চুপ করে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। সময় হয়েছে, সে স্তব্ধতা ভাঙার। নিজেদের অসুবিধার কথা জানানোর। নারী-পুরুষের সমানাধিকার সুনিশ্চিত করার।