ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের এক শিক্ষার্থীর রুমে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগের হল শাখার কর্মীরা। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম আখলাকুজ্জামান অনিক; তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় মাথায় গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে হল প্রশাসনকে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ওই শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, সকালে দশ থেকে বারো জন এসে তার ওপর হামলা চালায়। এদের মধ্যে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে পেরেছেন তিনি।
তারা হলেন, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাসফিউর রহমান, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সফিউল্লাহ সুমন (পিটার), ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাব্বির আল হাসান, সাংবাদিকতা বিভাগের নাইমুর রশিদ নাঈম। তারা তিনজনেই ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হল ছাত্রলীগ সভাপতি সজিবুর রহমান সজীবের অনুসারী।
ভুক্তভোগী অনিক বলেন, আমি ঘুমের মধ্যে ছিলাম। এমন সময় তারা দরজায় নক করে। আমি দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আকস্মিকভাবে আনুমানিক দশ থেকে ১২ জন আমার কক্ষে ঢুকে অতর্কিত হামলা করে। আমি হতভম্ব হয়ে যাই। এ সময় তারা স্ট্যাম্প দিয়ে মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং শরীরের অন্যান্য জায়গায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। যার ফলে গুরুতর জখম হই।
তিনি আরও বলেন, আহত অবস্থায় আমার বিভাগের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিই।
হামলার পেছনে কোনো কারণ ছিল কিনা জানতে চাইলে অনিক বলেন, আজ থেকে তিন দিন আগে হামলাকারীদের মধ্যে কে নাকি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়েছিল মেয়ে নিয়ে। তাদের অভিযোগ আমি নাকি তাদের সঙ্গে সেখানে দুর্ব্যবহার করেছি। অথচ সেই দিন আমার পরীক্ষা ছিল। এই জন্য তারা আমার ওপর হামলা চালায়।
তবে অভিযুক্তদের একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগ সভাপতি সজিবুর রহমান সজীব বলেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে হল প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির জানান, আমি স্মৃতিসৌধে ছিলাম। বিষয়টি জানার পর আমি একজন হাউস টিউটরকে সেখানে পাঠাই। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে একটি ঘটনার কথা জেনেছেন। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ আসলে আমরা তদন্ত করবো।
তদন্তের জন্য লিখিত অভিযোগ বাধ্যতামূলক কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেক সময় নিজেরাই মীমাংসা করে নেয়। এ জন্য লিখিত অভিযোগ ছাড়া তদন্ত সম্ভব নয়।