জ্বালানি ছাড়াই চলবে ট্রেন। যার কারণে পরিবেশের কোনো দূষণ হবে না। শুনতে হয়তো অবাক লাগছে। তবে বিজ্ঞানের যুগে এ-ও সম্ভব। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি চার্জ করবে ব্যাটারি। ২০৩০ সালের মধ্যেই ছুটবে এই ‘ইনফিনিটি ট্রেন’। অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি খনি কোম্পানি ফোরটেসকিউ মেটাল গ্রুপ-এফএমজি ও যুক্তরাজ্যের ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উইলিয়ামস অ্যাডভান্সড ইঞ্জিনিয়ারিং-ডব্লিউএই যৌথভাবে এ ট্রেন তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। প্রস্তুতকারী সংস্থা ফোর্টেসকুর সিইও এলিজাবেথ জেইনস সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ইনফিনিটি ট্রেন হবে বিশে্বর সেরা ট্রেন। সবচেয়ে শক্তিশালী। কারণ এই ট্রেন চলতে তেল, কয়লার মতো জ্বালানির প্রয়োজন নেই। বিদ্যুৎ লাগলেও তা চিরাচরিত শক্তি থেকে নেওয়া নয়। তার বদলে ট্রেন ছুটলেই ব্যাটারিতে চার্জ হয়ে যাবে। ২০৩০ সালের মধ্যেই এমন ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়ে যেতে পারে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইনফিনিটি ট্রেন’।
একমুখী ঢালু রেললাইনের অগ্রভাগে ৩৪ হাজার টন আকরিক লোহার ওজন নিয়ে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে দ্রুততার সঙ্গে গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাবে ট্রেনটি। আর যাওয়ার পথে যান্ত্রিক গতিশক্তি কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্যের ডব্লিউএই-উৎপাদিত ব্যাটারি চার্জ হবে। এই চার্জে ফিরতি পথে খনিতে ফিরে আসবে ইনফিনিটি ট্রেন।
খনি থেকে আকরিক, বর্জ্য পাথর ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে ১৫০০ সালে প্রথম খনি রেলের ব্যবহার শুরু হয়; যা সে সময় খনি শ্রমিকদের পরিশ্রম কমিয়ে দিয়েছিল। ৫০০ বছর পর এই আধুনিক প্রযুক্তির বিশে্ব এর উন্নয়ন ছিল সময়ের দাবি। আর সেই দাবি পূরণে এগিয়ে এলো যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। প্রস্তুতকারী সংস্থা ফোর্টেসকুর সিইও এলিজাবেথ জেইনস সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ইনফিনিটি ট্রেন হবে বিশে্বর সেরা ট্রেন। এটিই হবে বিশে্বর প্রথম ট্রেন, যেটি থেকে কোনো দূষণ ছড়াবে না। এই ট্রেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হবে এবং এর শক্তি কখনোই ফুরিয়ে যাবে না। তবে ট্রেনটি তৈরিতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, সে-সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রস্তুতকারক সংস্থা ফোরটেসকিউ মেটাল গ্রুপ-এফএমজি ও উইলিয়ামস অ্যাডভান্সড ইঞ্জিনিয়ারিং। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এই ট্রেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অন্য দেশের কাছে বিক্রি হবে কি না, তাও জানা যায়নি।