স্বাধীনতা দিবসের সকাল থেকে লাল-সবুজ রঙের ছড়াছড়ি। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষই লাল-সবুজে সেজে যোগ দিয়েছেন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। বিকেলে কেউ কেউ বের হয়েছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। শহরজুড়েই লাল-সবুজের উৎসব।
তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে। গতকালও তাদের কাছে দিনটি ছিল আর দশটা দিনের মতোই মলিন আর বিবর্ণ। তাদের কাছে স্বাধীনতা মানে উৎসবমুখর উদযাপন নয়, কম দামে দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা।
গতকাল পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক, মুচি, কুলি, মাঝি, ডাবওয়ালা, বাদামওয়ালা, চা-পান বিক্রেতাসহ নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে। তারা বেশির ভাগই বলেন, পরিবারের সদস্যদের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়াটাই তাদের আনন্দ। ক্ষুধামুক্ত থাকাই তাদের বড় স্বাধীনতা!
প্রচ- রোদের মধ্যে রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ গেটে রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আবদুল আজিজ। বয়স ৬২ বছর। রংপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন প্রায় আট বছর। যুদ্ধ না করলেও যুদ্ধ দেখেছেন নিজের চোখে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে দেশ রূপান্তর-এর কাছে দেশের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন, রয়েছে অনেক আফসোসও।
আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমার মনে আছে। ছোট থাকতে গ্রামের মুরব্বিরা গোল হয়ে বসে রেডিওতে যুদ্ধের খবর শুনতেন। আমরাও শুনেছি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণও শুনেছি। দেশের জন্য তার ভালোবাসা ছিল। তার মতো মানুষ এখন আর নাই। এখন সবাই খালি টাকার পেছনে ছোটে। টাকা দিয়ে যেকোনো রাস্তায় চলাচল করা যায়, যেকোনো জায়গায় রিকশা রাখা যায়।
সদরঘাটের মাঝি আকবর হোসাইন জানান, সকাল থেকে লাল-সবুজ রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরা মানুষ নদী পার হয়েছে। সবার মধ্যেই উৎসবের আমেজ। কিন্তু বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম তাতে আমাদের আর উৎসব নাই। আমাদের স্বাধীনতা হলো কম দামে খাবার কিনতে পারা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ডাব বিক্রি করেন সাহাদাত হোসেন। বলেন, ‘আজ স্বাধীনতা দিবস জানি। সকালে ভ্যানের হ্যান্ডেলের সঙ্গে একটা পতাকা লাগাইছি। দেশেরে ভালোবাসি। তাই বড়ভাই বিদেশ যাইতে কইলেও যাইতে ইচ্ছে করে না।’
বাহাদুর শাহ পার্কে চা-সিগারেট বিক্রি করেন আজগর মিয়া। স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে জানা নেই তার। তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা জানি না। আগে পাকিস্তান আছিল এখন বাংলাদেশ হইছে এই পর্যন্তই জানা। আমিও দেশেরে ভালোবাসি। দেশ স্বাধীন হইছে, উন্নয়ন হইছে আমি জানি। কিন্তু বাজারে জিনিসপত্রের এত দাম কেন তা মাথায় আসে না।
ঢাকা জজকোর্টের সামনে ফল বিক্রি করা আতাউল হকের কাছে অর্থনৈতিক কষ্ট থাকলেও স্বাধীনতার কারণেই দেশে যেসব উন্নয়ন হয়েছে সে জন্য খুশি। বগুড়ার এই বাসিন্দা বলেন, যমুনা নদীতে আগে ব্রিজ আছিল না। এখন একটা আছে, আরেকটা হইতেছে। আগে যাওয়া-আসা খুব কঠিন আছিল। আমার কাছে স্বাধীনতা মানে দেশের উন্নয়ন।