নিজেদের কমান্ডারকে ট্যাঙ্ক চাপা দিয়ে হত্যা করল হতাশ রুশ সেনারা

ইউক্রেনে যুদ্ধরত রাশিয়ার একজন কর্নেল পদের কমান্ডার তার নিজ ইউনিটের সৈন্যদের হমালায় নিহত হয়েছেন।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন যে, রাশিয়ান সেনাবাহিনীর ওই শীর্ষ কমান্ডার তার নিজের ‘হতাশ’ সেনাদের হাতে নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনে যুদ্ধে তার ইউনিটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর হতাশ হয়ে ওই ইউনিটের সৈন্যরাই কর্নেল ইউরি মেদভেদেভের ওপর দিয়ে একটি ট্যাঙ্ক চালিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে তার মৃত্যু হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে রাশিয়ার ৩৭তম পৃথক গার্ড মোটর রাইফেল ব্রিগেডের প্রায় ৫০% সেনা নিহত হওয়ার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পশ্চিমের শহর মাকারিভে এই ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনীয় সেনারা মাকারিভ পুনর্দখল করে নিয়েছে।

রাশিয়ার আরও একজন জেনারেলও মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনের যুদ্ধে এই নিয়ে এ পর্যন্ত সাতজন রুশ জেনারেল নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ মারা গেলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াকভ রেজানস্টেভ। রাশিয়ার দক্ষিণ সামরিক জেলার ৪৯তম সম্মিলিত অস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন তিনি।

রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার চার দিন পর, রেজানস্টেভ দাবি করেছিলেন যে, যুদ্ধ কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহরের কাছে লড়াইয়ে মারা গেছেন তিনি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন আজ ৩২তম দিনে গড়িয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের কঠোর প্রতিরোধের মুখে এক মাসেরও বেশি সময়ে ইউক্রেনের বড় কোনো শহর দখল করতে পারেনি রুশ সেনারা। ইউক্রেনের দাবি তারা ১৫ হাজারেরও বেশি রুশ সেনাকে হত্যা করেছে এবং আরও অন্তত ২৫ হাজার রুশ সেনা আহত হয়েছে।

তবে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে তাদের ১৩৫১ জন সেনা নিহত এবং ৩৮৩৫ জন সেনা আহত হয়েছে।

রাশিয়া শনিবার ঘোষণা করেছে যে, ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযানের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে এবং তারা এখন পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাসকে সম্পূর্ণভাবে ‘মুক্ত’ করার দিকে মনোনিবেশ করবে। তার মানে রাশিয়া হয়তো রাজধানী কিয়েভ দখল করার আশা ছেড়ে দিয়েছে।

রাশিয়ার একজন শীর্ষ জেনারেল সের্গেই রুদস্কই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার ‘প্রথম ধাপ’ এর বেশিরভাগই সম্পন্ন হয়েছে। এখন রাশিয়ার সেনাবাহিনী ডনবাস অঞ্চলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতি জোর দেবে।

এর মানে হলো, এমন একটি পৃথক রেখা তৈরি করা, যার মাধ্যমে পশ্চিমে ইউক্রেন সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে পূর্বে রাশিয়া-সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক এই দুটি এলাকাকে আলাদা করে রাখা হবে।

ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকায় রাশিয়ান বাহিনীর গতি স্থবির হয়ে পড়েছে। কিয়েভের চারদিকের অবস্থানগুলো থেকে হটিয়ে দেয়া হয়েছে রাশিয়ান বাহিনীকে। সেখানে তারা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অথবা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে।

রাশিয়া কিয়েভ দখলের আশা ছেড়ে দিয়েছে, সেটা হয়তো এখনি বলা যাবে না। কিন্তু পশ্চিমা কূটনীতিকরা বলছেন, সব জায়গাতেই রাশিয়ার সৈন্যরা একের পর এক আঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাশিয়ার আরও একজন জেনারেল নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটির সাতজন জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিহত হলেন। ফলে দেশটির অনেক ইউনিটের মনোবল একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

তারা মনে করছেন, জেনারেল সের্গেই রুদস্কই যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে পরিষ্কার যে, মস্কো উপলব্ধি করতে শুরু করেছে, ইউক্রেনে তাদের সরকার পরিবর্তনের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।

একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘রাশিয়া বুঝতে শুরু করেছে যে, একই সঙ্গে অনেক দিক দিয়ে চালানো তাদের এই অভিযান সফল হবে না’।

রুশ সেনাদের মধ্যে ১০টির মতো নতুন কৌশলগত ব্যাটেলিয়ন গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো এখন ডনবাসের দিকে চলে যাচ্ছে।