ড্রাগ নেওয়ার কারণে আমেরিকান ব্যান্ড ফু ফাইটার্সের ড্রামার টেলর হকিন্স মারা গেছেন, এমনটাই সন্দেহ কলম্বিয়ার তদন্তকারীদের। ময়নাতদন্তে তার শরীরে আফিম, গাঁজাসহ আরও বেশ কয়েকটি মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
টেক্সিকোলজি (বিষ সম্পর্কিত) প্রতিবেদন অনুযায়ী, হকিন্সের শরীরে ১০ প্রকারের বিষাক্ত পদার্থ নির্ণয় করা হয়েছে। তার মধ্যে ছিল বিষণ্নতা দূরীকরণমূলক ড্রাগও।
অবশ্য এসব কারণেই হকিন্সের মৃত্যু হয়েছে কিনা জানানো হয়নি এখনো। তদন্তকারীরাও বলেননি, সংমিশ্রিত এসব ড্রাগের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় তার মৃত্যুর কারণ কিনা।
২৫ মার্চ ৫০ বছর বয়সে শেষ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন হকিন্স। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার এক হোটেলে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই সপ্তাহান্তে এক মিউজিক ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে কলম্বিয়া সফরে গিয়েছিল ফু ফাইটার্স।
এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, হকিন্সের বুকে ব্যথার খবর শুনে হোটেলে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে বলা হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। প্রিয় ড্রামারকে বাজাতে দেখতে উদ্গ্রীব ছিল বোগোতার লোকজন। কিন্তু হকিন্সের আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে স্তম্ভিত তার ভক্তরা শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে সেই হোটেলের বাইরে ফুল রেখে।
কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে জানানো হয়, হকিন্সের মৃত্যু নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে এবং পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক মেডিসিন জানায়, এই মৃত্যুর কারণ জানতে তারা প্রয়োজনীয় মেডিকেল গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফু ফাইটার্সে বাজিয়েছেন হকিন্স। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডটির দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য কালার অ্যান্ড দ্য শেপ’। এর কিছুদিন পরে পুরো দমে ফু ফাইটার্সে ড্রাম বাজানো শুরু করেন হকিন্স।
২০০৫ সালে অ্যালিসন হকিন্সকে বিয়ে করেন তিনি। এই দম্পতির ঘরে রয়েছে দুই সন্তান— অলিভিয়ের ও অ্যানাবেল। দলের অন্যতম সদস্য হকিন্সের মৃত্যুতে তার পরিবারের পাশে আছে জানিয়েছে ব্যান্ডটি।
ডেভ গ্রোহলের হাত ধরে ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরু ফু ফাইটার্সের। এর আগে তিনি ছিলেন আমেরিকার আরেক রক ব্যান্ড নির্ভানায়। একই বছর গ্রাঞ্জ-অলটারনেটিভ জনরার ব্যান্ডটির লিড সিঙ্গার কার্ট কোবেইন আত্মহত্যা করলে নির্ভানা ছেড়ে ফু ফাইটার্স গঠন করেন গ্রোহল। এর তিন বছর পর তার ব্যান্ডে যোগ দেন হকিন্স। গত মাসেও একসঙ্গে পারফর্ম করতে দেখা যায় দুজনকে।