রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ১২ কৃষক ঢাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে ১০ জন অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন। প্রতারকরা কৌশলে দুই কৃষকের লক্ষাধিক টাকাও নিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে নয়জন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ও একজন ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুদিনেও তাদের চেতনা ফেরেনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কৃষকরা হলেন রবিন প্রামাণিক, সেলিম মন্ডল, রিপন, সোহেল, নূরাল, মালেক শেখ, করিম মল্লিক, গোপাল শেখ, বিল্লাল প্রামাণিক, রমেজ শেখ। তাদের বাড়ি বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের ডহরপাঁচুরিয়া গ্রামে।
ওই কৃষকদের দলে থাকা মালেক মন্ডল বলেন, আমরা ১২ জন ঢাকার শ্যামবাজারে নিয়ে পেঁয়াজ বিক্রির জন্য দুটি ট্রাক ভাড়া করে গত শুক্রবার বিকেলে বহরপুর থেকে রওনা দিই। শনিবার সকাল ১০টার দিকে পেঁয়াজ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার জন্য দুপুরে ঢাকার গাবতলী থেকে বাসে উঠি। সবার কাছেই পেঁয়াজ বিক্রির ৫০ থেকে ৬০ হাজার করে টাকা ছিল। বাস ছাড়ার আগে আমাদের মধ্যে ১০ জন বাসে হকারদের কাছ থেকে পেয়ারা, শসা ও বাদাম কিনে খান। আমি আর হাসেম খাইনি। একটু পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি।
বাসটি মানিকগঞ্জ আসার পর সুপারভাইজার ভাড়া আদায়ে সবাইকে ডাকাডাকি করেন। আমি ও হাসেম জাগলেও অন্যদের জাগানো যায়নি। বাস থেকেই আত্মীয়স্বজনদের বিষয়টি জানাই। রাজবাড়ী নেমে সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অচেতন হওয়া কৃষকদের মধ্যে রবিন প্রামাণিক ও বিল্লাল প্রামাণিকের লক্ষাধিক টাকা প্রতারকরা নিয়ে গেছে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অচিন্ত্য কুমার কীর্তনীয়া বলেন, সদর হাসপাতালে যারা ভর্তি আছেন তারা সবাই শঙ্কামুক্ত। তবে সুস্থ হতে কয়েক দিন সময় লাগবে। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি শাহাদাত হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে লিখিত কোনো অভিযোগ কেউ দেয়নি।