দেশে স্বল্প খরচে স্কুলভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের বিষণœতার অবস্থা পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আশাব্যঞ্জক ফল মিলেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষভাবে ডিজাইন করা দুটি সাইকোলজিকাল কাউন্সেলিং সার্ভিস বিদ্যালয়ে নিয়মিত অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। বিষন্নতা পরিমাপের স্কেল অনুযায়ী যেসব মায়ের আগে বিষন্নতা ছিল তাদের ৪০ শতাংশ এবং যেসব মায়ের বিষণœতা ছিল না তাদের ২৩ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটেছে। এই সেবা নিতে একজন মাকে মাত্র ৮০ টাকা খরচ করতে হয়েছিল। আনুমানিক চারটি সেশন নেওয়ার পর প্রায় অর্ধেক মায়ের মানসিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং তাদের জীবনযাত্রার মানে উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
আইসিডিডিআর,বি গতকাল গতকাল রবিবার এ গবেষণার তথ্য জানায়। এ গবেষণাটি গ্লোবাল মেন্টাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালে একটি গবেষণার অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ অটিস্টিক চিলড্রেন বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে সাইকোলজিকাল কাউন্সেলিং সার্ভিস (পিসিএস) নামে একটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করে। এ গবেষণায় ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮-র ডিসেম্বর পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবার একটি পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়।
আইসিডিডিআর,বি-র সায়েন্টিস্ট ও ইনিশিয়েটিভ ফর ননকমিউনিকেবল ডিজিজেসের হেড ড. আলিয়া নাহিদের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন চিলড্রেন্স অ্যান্ড হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ইউএসএ, সূচনা ফাউন্ডেশন, ইনস্টিটিউট অফ পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড হসপিটাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের সহযোগিতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
এ গবেষণাপত্রের লেখক, সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্যানেলের সদস্য সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ‘অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মা শুধুমাত্র শিশুকে লালন-পালনের চ্যালেঞ্জই মোকাবিলা করে না বরং প্রতিনিয়ত সামাজিক বৈষম্য, বিচ্ছিন্নতা এবং অন্যান্য প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। মেনথল গবেষণাটি আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছে যার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে প্রদান করা যেতে পারে এবং কীভাবে একটি বিশেষায়িত সেবায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে সেবাটিকে কার্যকর করা যায়।’ হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং মেনথল গবেষণার জ্যেষ্ঠ গবেষক অধ্যাপক কেরিম এম মুনির, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি-দুবাই এর ডিরেক্টর অধ্যাপক সালমান এ কেশাভজি ও প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. আলিয়া নাহিদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।