ময়মনসিংহে দিন দিন বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে জেলাটিতে ৫২৪টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। জেলা পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কম বয়সী তরুণ-তরুণীরাই বেশি আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পারিবারিক বন্ধন কমে যাওয়া, অর্থনৈতিক সংকট ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহনণের পথ বেছে নিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
জেলা পুলিশের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জেলায় ২০২১ সালে ৫২৪টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আর ২০২২ সালের প্রথম দুই মাসে ঘটেছে ৫২টি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে অনেকের মতে, জেলায় আত্মহত্যার প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। ১৩ উপজেলার ১৪৭টি ইউনিয়ন নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা গঠিত। লোকসংখ্যা ৫৩ লাখের ওপরে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জনবহুল এ জেলা বছরে আত্মহত্যার দিক দিয়ে দেশের কয়েকটি জেলার মধ্যে অন্যতম।
বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, আবেগে শিশুরা বেশিরভাগ সময় আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা রোধে প্রতিটি বিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। শিশু বিকাশে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো সাবজেক্ট নেই। অনেকে মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে বসে আছে, তাদের স্কুলে নিয়োগ দিয়ে শিশুদের কাউন্সেলিং করা হলে আত্মহত্যারোধে কাজে আসবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হানুল ইসলাম বলেন, এই যুগের ছেলেমেয়েরা একটু বেশি আবেগী। তারা বাবা-মা এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে অভিমান করেই দেখা যাচ্ছে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি যত্রতত্র ব্যবহারও অনেকাংশে দায়ী। পরিবারে বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের বেশি সময় দেওয়া। খোঁজ খবর রাখা।
কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী ও সাইকোথেরাপিস্ট ফৌজিয়া শারমীন হোসেন বলেন, এই যান্ত্রিক যুগে আত্মহত্যা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হলো মানসিক চাপ। মানসিক চাপের কারণেই বেশিরভাগ আত্মঘাতী হয়। তিনি বলেন, এটা অবশ্যই একটা সামাজিক অবক্ষয়। কিশোর ও তরুণদের মনে সবচেয়ে বেশি আবেগের বিচরণ থাকে। তা জানা সত্ত্বেও অভিভাবকরা তাদের মানসিক দিক একেবারেই মূল্যায়ন করেন না।