আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি রিজভীর

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামকে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘জনগণের করের টাকায় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা এভাবে দলীয় ক্যাডারের মতো বক্তব্য দিতে পারেন না। অবশ্যই তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।’

সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ২৬ মার্চ রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলামের রাখা বক্তব্য শিষ্টাচার বর্জিত অশালীন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘তাদের এ বক্তব্যে গোটা দেশবাসী হতবাক। আমরা আশা করি, পুলিশের অতি দলবাজ এ দুই কর্মকর্তাকে তাদের গর্হিত অপরাধের জন্য জাতি কোনো দিন ক্ষমা করবে না।’

রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে বছরজুড়ে স্বাধীনতার নামে এক ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার যেসব অনুষ্ঠান হয়েছে, সেসব অনুষ্ঠানে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন উপেক্ষিত। আদালতের রায় আর র‌্যাব-পুলিশের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা নীরবেই পার করে দিয়েছেন তাদের জীবনবাজি রেখে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী। জাতির জীবনে বড় নির্মম পরিহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপেক্ষা করে আওয়ামী দলদাস প্রজাতন্ত্রের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী এখন জাতিকে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শোনাচ্ছে।’

 আওয়ামী লীগের দোষ হলো সত্য কথাটাও ঠিকমতো বলতে পারে না- ডিএমপি কমিশনারের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে, প্রতিদিন ওবায়দুল কাদের-হাছান মাহমুদরা বিএনপি সম্পর্কে মিথ্যাচার-অপপ্রচার চালানোর পরও হয়তো পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুলের মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগ পারছে না তাই আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখতে হলে পিস্তল-বন্দুক সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশের ‘লিপ সার্ভিসও’ দেয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, যারা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য চূড়ান্ত বিপদের কারণ হয়েছিল, তাদের নাকি শেখ মুজিবের ড্রয়িং রুম পর্যন্তও এক্সেস ছিল। সুতরাং এখনো প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তারা বক্তব্য-মন্তব্যে নিজেদেরকে আওয়ামী লীগারদের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার প্রমাণ করতে চান তারাই আওয়ামী লীগের বিপদের কারণ হয়ে উঠবে।’

রিজভী বলেন, ‘একটি দেশে রাজনীতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাজনৈতিক শিষ্টাচার হারিয়ে গেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এমন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দেশে এখন সেই অবস্থাই চলছে। দেশে কোনো সভ্য এবং গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে চাকরি বিধি লঙ্ঘনের দায়ে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার এতক্ষণে জেলে না হলেও চাকরি থেকে পত্রপাঠ বিদায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি, কারণ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদরা এখন সাইডলাইনে আর নিশিরাতের সরকারটি চলছে র‌্যাব-পুলিশের বন্দুকের ওপর ভর করে।’