আগেভাগেই জমে উঠেছে ঈদের পাইকারি বাজার

করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে গত দুই মৌসুম পুরনো ঢাকার ইসলামপুরের কাপড়ের মার্কেটে তেমন বেচাকেনা ছিল না। এবার ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে অগ্রিম জমে উঠেছে বেচাকেনা। শবেবরাতের পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় রেখে বিপণিগুলো সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েকটি ঈদে করোনার কারণে ব্যবসা হয়নি। বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার করোনার সংক্রমণ নেই বললেই চলে। শবেবরাতের পর থেকেই বেচাকেনা ভালো। ঈদ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগের সব লোকসান পুষিতে নেওয়া যাবে।

গত রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামপুরের দোকানপাটের কর্মীরা পুরোদমে বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দম ফেলার ফুরসত নেই। ক্রেতাদের একের পর এক মালামাল দেখাচ্ছেন তারা। এ এলাকার প্রায় সব মার্কেটেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। তবে ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় দিনভর যানজট থাকছে। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, ইসলামপুরে পাইকারি কাপড়ের দোকানের সংখ্যা ১২ হাজারের কাছাকাছি। এসব দোকানের ওপর নির্ভর করে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। এখানে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় উৎপাদন ও বিপণন হয়। দেশি পোশাক ছাড়াও আমদানি কাপড় পাওয়া যায়। তবে এবার হাতে কাজ করা পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

ইসলামপুরের একরাম উদ্দীন প্লাজার সভাপতি ও আশা ম্যাচিং কর্নারের মালিক মো. আদিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত দুই বছর খুব খারাপ সময় পার করেছি আমরা। এখন বেশিরভাগ ব্যবসায়ী নতুন করে পুঁজি খাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। যদিও দ্রব্যমূল্যের কারণে পণ্যের ব্যয় বেড়ে গেছে। বিক্রিতে কিছুটা হলেও ধাক্কা লাগছে। এরপরও মানুষ যেভাবে আসছেন, ঈদ পর্যন্ত ব্যবসা করতে পারলে সবাই ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’

আনোয়ার ফেব্রিকসের মো. শরীফ বলেন, পাঞ্জাবি কাপড়ের চাহিদা এ বছর অনেক, কিন্তু দাম বাড়তি। আগের থেকে প্রতি গজে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এদেশের মানুষ উৎসবপ্রিয়। যত কিছুই হোক সামনে বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

সিলেট থেকে মালামাল কিনতে আসা মো. সাগর বলেন, ‘দোকানে আগেভাগে ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। এজন্য ঈদের পোশাক নিতে ইসলামপুরে এসেছি। কিন্তু এ অঞ্চলের রাস্তাঘাটের যে অবস্থা, কেনাকাটা করে শান্তি নেই। রাস্তায় দিন পার হয়ে যায়।’

ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দীন মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদুল ফিতর ঘিরে আগেভাগেই জমে উঠেছে কেনাকাটা। আগের বছরগুলোর চেয়ে এবার ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমিতির পক্ষ থেকে ৭ আনসার ও ৯ রক্ষী রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এত বড় মার্কেটে সরকারি তরফে ট্রাফিক পুলিশ দিলে সবারই দুর্ভোগ কমত।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামপুরের ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে চেষ্টা করছেন। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা দরকার। কাপড় বিক্রির ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ। পাইকারি বেচাবিক্রিতে লাভ সীমিত। ফলে ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার স্বার্থে ভ্যাট আরও কমালে ভালো হতো।’