কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ

নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তাকে মঙ্গলবার দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্নাতকোত্তর শ্রেণির ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা খাতা পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে বিভাগীয় প্রধানের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

গণমাধ্যমকে দেওয়া শিক্ষার্থীদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার নম্বর মূল পরীক্ষা শুরুর আগে প্রকাশের নিয়ম থাকলেও একক সিদ্ধান্তে বিভাগটির প্রধান নজরুল ইসলাম তা করেন না। ওই শিক্ষক পরীক্ষার খাতা হারিয়ে ফেলায় তিনবার একটি ইনকোর্স পরীক্ষায় বসতে হয়েছিল বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

তারা বলেন, বিভাগ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে কীভাবে শিক্ষক হয় তা দেখা নেয়ার হুমকিও দেন নজরুল ইসলাম ।

আন্দোলনে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী মনির বলেন, পুরো বিভাগে যার রেকর্ড মার্কস তারও নম্বর কমিয়ে দিয়েছে। নজরুল স্যার আমাদের গালমন্দ করে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, আমাদের ব্যাচ থেকে শিক্ষক হতে চাইলে তিনি দেখে নেবেন। স্যারের এ কথার প্রভাবই আজকের আমাদের এই ফলাফল। আমরা নিশ্চিত খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করলে আমাদের রেজাল্টের সিজিপিএ বাড়বে। অনেকে চাকরির বাজারেও নামতে পারবে।  ওনার একক স্বেচ্ছাচারিতা থেকে আমরা মুক্তি চাই।

তার অভিযোগ, স্নাতক পর্যায়ে বিভাগটিতে রেকর্ড মার্কস পাওয়া শিক্ষার্থী জারমিনা রহমান প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছে। সেই শিক্ষার্থীকেও নম্বর টেম্পারিং করে ৩.৪৫ দিয়েছেন প্রফেসর নজরুল ইসলাম।   

ফলাফল প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থী জারমিনা রহমান বলেন, স্যারদের কোথাও ভুল হতে পারে। আমি পুনরায় মূল্যায়ন করার অনুরোধ জানাই। আমি ভালো পরীক্ষা দিয়েছি । আমার যে ফলাফল এসেছে তা প্রত্যাশিত নয়।

রাসেল নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ফলাফল পুনরায় মূল্যায়ন না হলে আমরা এই সার্টিফিকেট নেব না।

শিক্ষার্থীরা বলেন, নজরুল ইসলাম আমাদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ফলাফল প্রকাশের কারণে এখন থেকে তোমরা আমাদের শিক্ষার্থী না। যা পারো করে ফেলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার। পারলে আমার কিছু করে দেখাও।

তবে এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি বিভাগটির প্রধান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামের।

তবে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রক্টর।

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেছি।  একদিন সময় চেয়েছি আমরা। বুধবার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন উপাচার্য স্যার ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, অনুষদে সিনিয়র শিক্ষক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো কথা বলা যায় না। উনি ক্লাসের থেকে বেশি ব্যস্ত শিক্ষক রাজনীতিতে। ৬ মাসের কোর্স ৪-৫টি ক্লাস করিয়ে পরীক্ষায় বসান শিক্ষার্থীদের। যার কারণে শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত।

সোমবার প্রকাশিত হয় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণির চূড়ান্ত ফলাফল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থী জারমিনা রহমান আমাদের প্রয়াত শিক্ষক সহকর্মীর মেয়ে। সেই শিক্ষকের সঙ্গে নজরুল স্যারের সম্পর্ক ছিল বৈরী। সেটির প্রভাবও পরতে পারে মেয়েটির ফলাফলে। এমন ঘটনা দেখে শিক্ষক হিসেবে আমারও লজ্জা হচ্ছে।