এসি মিস্ত্রির হাতে খুন হন গৃহবধূ তানিয়া: পুলিশ

রাজধানীর সবুজবাগের গৃহবধূ তানিয়া আফরোজ (২৬) এসি সার্ভিসিং করতে আসা মিস্ত্রিকে লুটপাটে বাধা দেওয়ায় খুন হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তারা জানায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তিন খুনি। এ ঘটনায় প্রধান আসামি বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ধৃত বাপ্পীকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। অপর দুই আসামি সুমন ও রুবেলকে বুধবার আদালতে হাজির করা হবে।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মতিঝিল জোনের উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল আহাদ বলেন, নিহত তানিয়ার স্বামী ময়নুল ইসলাম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টেকনিশিয়ান হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তারা বসবাস করেন সবুজবাগ এলাকার বেগুনবাড়ির মজিবর রহমানের ভবনের দোতলায়। তাদের সংসারে মায়মুনা জাহান নামে চার বছরের এক কন্যা ও ১০ মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে তাদের বাসায় এসি স্থাপন করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ মার্চ ময়নুল ইসলাম ফরিদপুরে তার কর্মস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ বিকেলে বাসায় আসেন এসি মিস্ত্রী বাপ্পী ও তার সহযোগী সুমন। এর আগে বাসায় এসি ঠিক করে দেওয়ার সুবাদে তানিয়া তাদের চিনতে পারেন এবং বাসার কলাপসিবল গেট খুলে দেন। এ সময় তারা এসি সার্ভিসিং করাবেন কিনা জানতে চান। তানিয়া তখন তার স্বামীকে ফোন করে বাপ্পীর সাথে কথা বলিয়ে দেন। 

পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, মায়নুল বাসায় না থাকার কারণে তাদের পরবর্তী সময়ে ডেকে নেয়া হবে বলে জানান তানিয়া। এরপর তানিয়া ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ওপরে চলে যান। সীদ্ধান্ত বদলে তিনি আবার তিনি ফিরে আসেন। বাপ্পী ও সুমনকে নিয়ে ওপরে যান। এরপর তারা এসি সার্ভিসিংয়ের কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তার আনার কথা বলে বাইরে যান বাপ্পী। কিছুক্ষণ পর তিনি রুবেল নামে আরো একজনকে নিয়ে ফিরে আসেন এবং রবেলও এসির মিস্ত্রী বলে জানান। 

পুলিশ জানায়, এ কথা জানার পর ছোট সন্তানকে নিয়ে রান্না ঘরে কাজে যান তানিয়া। তার মেয়ে মায়মুনা মিস্ত্রির কাজ দেখতে থাকেন। একপর্যায়ে সুমন, বাপ্পী ও রুবেল আলমারীর দরজা ভেঙে মূল্যবান মালামাল লুট করতে থাকেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তানিয়া চিৎকার করলে তার মুখে বালিশ দিয়ে চেপে ধরে রুবেল এবং ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করে বাপ্পী মাখায় ও পিঠে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই তানিয়া মারা যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তার সন্তানরা কান্না শুরু করলে তাদের মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা বাসা থেকে নগদ টাকা ও সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যান। 

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি বাপ্পীকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয় রুবেল ও সুমনকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত সোনার গহনা উদ্ধার করা হয়েছে।

আব্দুল আহাদ আরো বলেন, বাপ্পীকে হাজির করা হলে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমীর আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আমিনুল বাশার।