ইউক্রেন যুদ্ধ এক নতুন মোড় নিয়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের মধ্যস্থতায় কিয়েভ ও মস্কোর প্রতিনিধিরা কিছু বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। কিয়েভ ও চেরনিহিব থেকে ব্যাপকমাত্রায় সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক হতে পারে এমন সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে শান্তি আলোচনা থেকে। কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে সম্মত। অর্থাৎ কিয়েভ অন্য কোনো দেশ বা সামরিক জোটভুক্ত হবে না। কিন্তু গতকাল বুধবারও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানায়, গোটা ইউক্রেনে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে না। এই সাইরেনের কারণ রুশ যুদ্ধবিমান। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা ভাদিম ডেনিশেঙ্কো সিএনএনকে বলেন, ‘ইউক্রেনে রাতের বেলা যুদ্ধবিমানের সাইরেন বাজতে থাকে। বস্তুতপক্ষে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে সাইরেন বাজে না। রাত ছাড়া ভোরবেলাতেও সাইরেন বেজে ওঠে। বিশেষত দনবাস, ক্রামাট্রস্ক, বাখমুত, কিয়েভসহ অন্য আরও শহরে অবস্থা এমন। চেরনিহিবে এখনো গোলা নিক্ষেপ করছে রুশ বাহিনী। খেমেলনিটস্কি অঞ্চলেও বোমা ফেলছে। কিয়েভে গতকালও বেশ কয়েকটি রকেট হামলা হয়েছে।’
ইউক্রেন যুদ্ধে এ পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মারিওপোল ও চেরনিহিবে। এছাড়া ইরপিন শহরের শহরতলিতেও হামলা হচ্ছে একের পর এক। ডেনিশেঙ্কো আরও বলেন, ‘রুশ সেনাদের কয়েকটি ইউনিট বেলারুশের দিকে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু এই ফিরে যাওয়া অনেকটা যেন আহত যোদ্ধাকে ফিরিয়ে নিয়ে তরতাজা সেনাদের যুদ্ধের ময়দানে পাঠানোর প্রস্তুতির মতো। ইউক্রেন ছেড়ে যারা চলে যেতে চাইছে, তাদের আমরা অপেক্ষা করতে বলছি। কারণ পরিস্থিতি এখনো বোঝা যাচ্ছে না। সরকারিভাবে ঘোষণা হলে ইউক্রেনীয়রা আবার নিজ দেশে ফিরে আসতে পারবে।’
কিয়েভে এখন পর্যন্ত রুশ বাহিনী তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। কিন্তু শহরবাসীর দিন-রাত কাটছে ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। মারিওপোলের বাসিন্দাদের শহর থেকে নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার জন্য মানবিক করিডর খুলে দিয়েছে রাশিয়া। পাশাপাশি শহরগুলোতে যাতে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারে তাও নিশ্চিত করেছে মস্কো। যদিও কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিছু জায়গায় মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে রুশ বাহিনী। কিয়েভের এমন দাবির পক্ষে কোনো নিরেট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বলেছে, কিয়েভের আশপাশ থেকে খুবই স্বল্পসংখ্যক সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে রাশিয়া। যুদ্ধ থেকে পিছু হটা কিংবা প্রত্যাহার নয়, সেনাদের নতুন এলাকায় মোতায়েনের জন্যই এটা করা হচ্ছে। এক ব্রিফিংয়ে পেন্টাগন মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘ইউক্রেনের অন্য এলাকাগুলোতে বড় ধরনের হামলা দেখার জন্য আমাদের প্রস্তুত হওয়া উচিত। এর মানে এই নয় যে কিয়েভের ওপর থেকে হুমকি দূর হয়েছে।’ এদিকে মিকোলাইভ শহরে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৩০ জন। মিকোলাইভ শহরের গভর্নরের কার্যালয়ে রুশ সামরিক বাহিনীর হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। শহরের মেয়র ওলেকসান্দর সেনকেভিচ বিবিসিকে বলেছেন, রুশ হামলার শিকার ওই গভর্নর ভবনে কোনো সেনা সদস্য বা সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না।