আশা জাগাচ্ছে ডারবান

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশকে নিয়ে আশা করা যায়। সেই আশার পালে বাতাস দিচ্ছে ডারবানের রেকর্ড। সঙ্গে তৃতীয় অনুঘটক হিসেবে যোগ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকান পেস আক্রমণের দুর্বলতা।

২০১৭ সালে শেষবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছিল বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন সেই দলে ছিলেন না সাকিব আল হাসান। এবারও প্রথম টেস্টে তিনি খেলছেন না। লিটন-তামিমরা ছিলেন। তবে বোলিং আক্রমণে আছেন কেবল তাসকিন। শরিফুল, এবাদত, রাহী, খালেদরা নতুন। প্রাণবন্তও। ওয়ানডে সিরিজে তারা যে বোলিং করেছে তাতে মঙ্গানুইয়ের মতো ডারবানেও কিছু একটা ঘটলেও ঘটতে পারে। তাছাড়া ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড ভালো নয়। ১৯২৩ সালের পর থেকে এই মাঠে ৪৪ টেস্ট খেলেছে তারা। জয় পেয়েছে মাত্র ১৪টিতে। হেরেছে ১৬ টেস্ট। ড্র ১৪টি। ২০১৯ সালে ডারবানে শেষ টেস্ট হয়েছিল। তুলনামূলক দুর্বল শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে সেই টেস্ট জিতে অবাক করে দেয়। এবারও কি তেমন কিছু ঘটতে পারে?

টেস্টে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে খুব সফল না হলেও দুই একটা ম্যাচে অবাক করতেই পারে। বিশেষ করে যখন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং এবং বোলিং আর আগের মতো গভীর নয়। ২০১৭ সালে ফাফ ডু প্লেসির নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিল প্রোটিয়ারা। সেই দলে ওপেন করতেন কুইন্টন ডি কক। মিডল অর্ডারে দেয়াল হয়ে দাঁড়াতেন হাশিম আমলা। এখন এরা কেউ টেস্ট খেলেন না। সেই দলের ডিন এলগার এবং টেম্বা বাভুমাই শুধু এবারের দলে আছেন। বোলিংয়ে আছেন ডুয়ান অলিভিয়ের আর কেশব মহারাজ। কাগিসো রাবাদা, হাল আমলের সেনসেশন লুঙ্গি এনগিদি আইপিএলের জন্য টেস্ট দল থেকে ছুটি নিয়েছেন। তাই ডারবানে স্বাগতিকদের পেস আক্রমণ যে খুব তীব্র নয় সে কথা বলা যায়। এর সুযোগ কি নিতে পারবে বাংলাদেশ?

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন তামিমরা। অধিনায়ক মুমিনুল হকও সে কথা বলেছেন। সীমিত ওভারে ভালো খেলার ইতিবাচক মনোভাব কি টেস্টে ভালো খেলার প্রেরণা হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ডারবানে। যেখানে ২০১৩ সালে শেষবার টেস্ট জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় এক যুগ হতে চলল জয়ের দেখা নেই। ঘরের মাঠে তারা অনেক শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে। কিন্তু ডারবান সেই অপয়া রয়ে গেছে। ভোঁতা পেস আক্রমণ নিয়ে আজ সেখানেই নামছে প্রোটিয়ারা। হতে পারে বাংলাদেশ টেস্টে দুর্বল। কিন্তু ডারবানের মতো মাঠ সেই দুর্বলতা ঢেকে দিতে পারে। সঙ্গে প্রোটিয়াদের দুর্বল পেস আক্রমণ আর অনভিজ্ঞ ব্যাটিং বিবেচনায় নিলে ‘মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের’ অঙ্কটাও কিন্তু মিলে যায়।