দেশের উচ্চ আদালতের বিচারকদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিচারকের সাহসিকতায় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নব-নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ১২ তলা ভবন ‘বিজয় একাত্তর’ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন।
সকালে নগরীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়। আপনজন হারিয়েও বিচার চাইতে পারিনি।’
বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার রায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিচারকদের সাহসী পদক্ষেপে ন্যায় বিচার পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর সামরিক শাসকেরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। উচ্চ আদালত রায় দিয়ে সেই ক্ষমতা অবৈধ করেছে। বিচারকদের সাহসিকতায় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে।
উচ্চ আদালতের রায় বাংলায় দিতে বিচারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ইংরেজিতে রায় দিলে এটি সকলের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। রায়গুলো যেন বাংলায় দেওয়া হয়। যারা বিচারপ্রার্থী তারা যেন সঠিকভাবে জানতে পারে রায়ে কী বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তার সরকার গণতন্ত্রকে নিরাপদ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্র সুরক্ষা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, যাতে জনগণ ন্যায়বিচার পায়।’
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্যাতিত নারী, শিশু এবং অ্যাসিড হামলার শিকারসহ সকলে যাতে সুবিচার পায় আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।
এর আগে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নব-নির্মিত ১২ তলা ভবনের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার।
সাবেক প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং বিশিষ্ট আইনজীবীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।