সীতাকুন্ডে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি মো. শাহীন (১৯) র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে। ঘটনার ৩ দিনের মাথায় চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকা হতে এ ঘটনার একমাত্র আসামিকে আটক করা হয়।

এর আগে গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহীনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন শিশুটির বাবা।

র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার (হাটহাজারী) মাহফুজুর রহমান জানান, পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও এই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর থেকে আসামি শাহীন গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করতে থাকে।

সর্বশেষ গতকাল (বুধবার) রাতে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার বারৈয়ারহাট বাজারে অবস্থান করছে মর্মে প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে র‌্যাব।

এরপর র‌্যাবের একটি দল উক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটককৃতকে সীতাকুন্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিশুর বাবা জানান, তিনি নিজে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ৬ জনের সংসারের অভাব ঘোচাতে তার স্ত্রীও মাঝে-মাঝে অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করেন।

বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে দুজনেই কাজে ঘরের বাইরে ছিলেন। প্রতিদিনের মতো এইদিনও দুপুর দুইটার দিকে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই শিশু।

ঘরে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ম্যাজিক লাইট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের ইয়াছিন নগর গ্রামের নেজাম উদ্দিনের ছেলে শাহীন। সেখানে নিয়ে দরজা বন্ধ করে উচ্চ শব্দে টেলিভিশন চালিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। এক সময় শিশুর চিৎকারে আশপাশের মানুষজন চলে আসলে কৌশলে পালিয়ে যায় শাহীন।

খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুর মা তাকে প্রথমে সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকেরা তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে ২৩ তারিখ ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও ২৭ তারিখ মামলা করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।