অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী ট্রাংক রোডস্থ স্কুল প্রাঙ্গন থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ছাত্ররা স্কুল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।
গত বুধবার বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ের প্রেক্ষিতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগে জানা যায়, ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ২০২২ সালে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সহায়ক বই সিলেবাসে বাধ্যতামূলক করেছেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল হতে ২০ টাকা মূল্যে যে সিলেবাস বই কিনছে তাতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সহায়ক বই।
সিলেবাস বই পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৬ষ্ঠ হতে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজির দুটি করে মোট আটটি সহায়ক বই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব বই কিনতে একজনকে গুনতে হয়েছে ৭৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। এ ছাড়া চলতি শিক্ষাবর্ষে ফেনী সেন্ট্রাই হাই স্কুলের সিলেবাসের প্রচ্ছদে প্রতিষ্ঠাকাল ১৯১৯ সালের পরিবর্তে ১৯৯৯ সাল ছাপানো হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক জানান, বইগুলো বাধ্যতামূলক পাঠ্য করার জন্য প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম গ্রহণ করেছেন মোটা অংকের অর্থ। বিনামূল্যের সিলেবাস বই শিক্ষার্থীরা কিনেছে ২০ টাকা করে।
নাম প্রকাশ না করে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, করোনাকালেও বিদ্যালয়ের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে হয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন ফি, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এসাইনমেন্ট ফি, নিয়মিত পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে। চলতি বছন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের থেকেও ১৪৭০ টাকা বিনা রশিদে সেশন চার্জ নেয়া হয়েছে। মডেল টেস্ট বাবদ নেয়া হয়েছে ৩৫০ টাকা।
এ ছাড়া করোনার অজুহাতে গত বছর একসাথে ১৯ শিক্ষককে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে সিলেবাসের বইগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছি।
তবে বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এদিকে সহকারী বই বাতলের কোনো নোটিশ ক্লাসে বা নোটিশ বোর্ডে দেয়া হয়নি বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। তারা বলে, নিয়মিত ক্লাসে সিলেবাসের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এখনও শিক্ষকরা পাঠদান করছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর আশ্রাফুল আলম গীটার জানান, সিলেবাসে সহায়ক বইয়ের নাম উল্লেখ করা কোনোভাবে ঠিক হয়নি। আমি তখন পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য দেশের বাইরে ছিলাম। এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিম উল্লাহ বলেন, কোনো ধরনের নোট বা গাইড তালিকাভুক্ত করা, কিনতে বাধ্য করা আমাদের বিধি পরিপন্থী। এ ধরনের কাজ শুধু স্বল্প মেধা বা জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিই করতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (এনসিটিব) অধ্যাপক মো. মশিউজামান জানান, এনসিটিবি আইনে পরিষ্কারভাবে নিষেধাজ্ঞা আছে আমাদের প্রণীত বই ছাড়া অন্য কোনো বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহায়ক হিসেবে বাধ্যতামূলক করা যাবে না যা আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন।
এদিকে গত বুধবার ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের অনিয়ম ও নানা বিষয়ের প্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর আশরাফুল আলম গীটার। বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোশারফ হোসেন ভূঞাকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, আহাদ চৌধুরী, জাফর উল্লাহ, নজরুল ইসলাম ও সাইমুন রহমান।
তদন্ত কমিটির প্রধান মোশারফ হোসেন ভূঞা জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে।